শুচিবায়ুতা একটি মানসিক রোগ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শুচিবায়ুতা একটি মানসিক রোগ

হালরং ডেস্ক ১:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯

print
শুচিবায়ুতা একটি মানসিক রোগ

আপনি কি একই চিন্তা বারবার করতে থাকেন? কিংবা একই কাজ বারবার? যেমন, ঘরে তালা ঠিকমতো দেওয়া হয়েছে কিনা, পানির কল বন্ধ হয়েছে কিনা, লাইট, ফ্যান কিংবা গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়েছে কিনা এই ধরনের বিষয়গুলো বারবার চেক করা, বারবার হাত-পা অথবা অন্য কিছু ধুতে থাকা, গণনার ক্ষেত্রে ভুল হচ্ছে সন্দেহে বারবার প্রথম থেকে শুরু করা, কখনো বা নামাজের ক্ষেত্রে সুরা ভুল হচ্ছে ভেবে বারবার পুনরায় শুরু করা, কোনো একটি কাজ নির্দিষ্ট ভঙ্গিতেই বারবার করা, বিভিন্ন কাজ করার সময় নির্দিষ্ট সিরিয়াল মেইনটেইন করা যা না করলেও চলে। এই ধরনের সমস্যাকে বলা হয়ে থাকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা সংক্ষেপে ওসিডি। তবে বাংলায় একে অনেক সময় শুচিবায়ুতাও বলা হয়ে থাকে।

এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে, ব্যক্তির মনে প্রথমে কোনো একটি চিন্তা/ ছবি/ নির্দিষ্ট কিছু করার তাড়না আসে যার ফলে তার মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। সেই অস্বস্তি কেবলমাত্র কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার ফলেই দূর হয়। যেমন, একবার হাত ধোয়ার পর মনে হতে পারে যে এখনো হাতে নোংরা লেগে আছে, কিংবা আবার হাত না ধুলে তার অমঙ্গল হতে পারে তখন ব্যক্তি আবার হাত ধুতে থাকে।

একবার চেক করার পর সন্দেহ হয় যে হয়তো সে তালা অথবা পানির কল বন্ধ করেনি। তখন ব্যক্তি পুনরায় চেক করে। এভাবে একই কাজ বারবার করতেই থাকে। আবার আমরা অনেক সময় দেখতে পাই যে, ব্যক্তি কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থের ওপর পা তুলে দিচ্ছে এমন চিন্তা আসে অথবা ছবি মনের মধ্যে ভেসে ওঠে। যদিও সে একজন ধার্মিক মানুষ। তখন ব্যক্তির মনে অপরাধ বোধ তৈরি হয় এবং তখন সে বারবার ‘তওবা’, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ অথবা এই ধরনের পাপমোচনমূলক শব্দ আওরাতে থাকে।

এইখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, সাধারণত আমরা এক থেকে দুইবার হাত ধুতে বা চেক করতে পারি। কিন্তু এই ধরনের ব্যক্তিরা একই কাজ অনেকবার করতেই থাকে এবং সেই কাজে প্রচুর সময় ব্যয় করে। যার ফলে তার দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ব্যক্তির সব চিন্তাই অযৌক্তিক হয়ে থাকে। যেটা ব্যক্তি অনেক সময় নিজেও বুঝতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, যে ব্যক্তি এই ধরনের কাজ গুলো বা চিন্তাগুলো ইচ্ছা করে করে না। সে চাইলেও সেগুলো না করে থাকতে পারে না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটি তার অসুখেরই একটি উপসর্গ মাত্র। সেজন্য ব্যক্তির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার অথবা দোষারোপ না করে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হতে হবে। এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে ওষুধ এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় অথবা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।