বর্ষায় যাত্রা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

বর্ষায় যাত্রা

হালরং ডেস্ক ১:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৯

print
বর্ষায় যাত্রা

ঋতু বৈচিত্র্যের এই দেশে ভ্রমণ গন্তব্য অনেক। একেক ঋতুতে এদেশের ভ্রমণের জায়গাগুলো একেক রূপে ধরা দেয়। অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্ষায় ভ্রমণ অনেক উপভোগ্য। প্রকৃতি এ সময়ে সজীবতায় ভরে ওঠে। বাংলাদেশে বর্ষায় ভ্রমণের পাঁচটি গন্তব্য নিয়ে হালরং এর এবারের আয়োজন।

সুন্দরবন
ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে অবস্থিত বাংলাদেশ সুন্দরবন। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল উপকূলীয় এলাকা জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান। ‘পূর্ব’ ও ‘পশ্চিম’ দুটি বিভাগের অধীনে চারটি প্রশাসনিক রেঞ্জে ভাগ কার হয়েছে সুন্দরবনকে। ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়।

৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য এটি। নানান বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এ শ্বাসমূলীয় বন। বর্ষায় সুন্দরবন ভ্রমণ হতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। পুরো বন এ সময়টায় যেন সজীব হয়ে ওঠে। বন্যপ্রাণীও দেখা যায় প্রচুর।


নীলাচল
বান্দরবান শহরের সবচেয়ে কাছে সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু এ পর্যটন কেন্দ্র। বর্ষায় এ জায়গা থেকে মেঘ ছোঁয়া যায়।


বান্দরবান জেলা পরিষদের উদ্যোগে গড়ে তোলা মনোরম এ পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের থাকার জন্য রিসোর্টও আছে। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়া এলাকায় পাহাড়ের গায়ে গায়ে লাগোয়া জায়গায় পর্যটকদের জন্য আছে নানা ধরনের ব্যবস্থা।

নীলগিরি
বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজর ২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি মনোরম পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরি।

সেনাবাহিনী পরিচালিত এ পর্যটন কেন্দ্রে থাকার জন্য ভালো মানের কটেজ আছে। নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে যেদিকে চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়।

রাতারগুল
বাংলাদেশের একমাত্র মিঠা পানির জলাবন রাতারগুল। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত এ বন বছরের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি সময়ই ডুবে থাকে। সিলেট বন বিভাগের উত্তর সিলেট রেঞ্জে-২ এর অধীন প্রায় ৩ হাজার ৩২১ একর জায়গাজুড়ে রাতারগুল জলাবনের অবস্থান। এর মধ্যে ৫০৪ একর জায়গায় মূল বন, বাকি জায়গা জলাশয় আর সামান্য কিছু উঁচু জায়গা।

শুধু বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে পুরো জঙ্গলই পানিতে ডুবে থাকে। শীতে প্রায় শুকিয়ে যায় রাতারগুল। তখন কেবল জল থাকে বনের ভেতরে খনন করা বড় জলাশয়গুলোতে। রাতারগুলের সৌন্দর্য দেখতে হলে তাই যেতে হবে বর্ষায়।

বিছনাকান্দি
বর্তমানে সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। এ জায়গাতেও ভ্রমণের আসল সময় বর্ষাকাল। জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার রস্তুমপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে এই জায়গা। পাথর বিছানো বিস্তীর্ণ প্রান্তরের ওপরে বয়ে চলা মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনা ধারা বিছনাকান্দির মূল আকর্ষণ।

যেতে হয় পাহাড়ি নদী পিয়াইন ধরে। এ নদী যৌবন পায় কেবল বর্ষায়। তখন ভরা পিয়াইনের বুকে চলতে চলতে এর দুই পাশের দৃশ্য দেখে বিমোহিত হবেন যে কেউ।