গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও এর প্রভাব

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও এর প্রভাব

হালরং ডেস্ক ১:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০১৯

print
গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও এর প্রভাব

এক গবেষণায় পাওয়া তথ্য মতে, সারাবিশ্বে ৩৫% মহিলারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। বাংলাদেশের একটি হিসেবমতে, প্রায় ৮৪% মহিলারা জনসম্মুখে শারীরিক এবং মৌখিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। সাধারণত মহিলারা ঘরে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভৃতি জায়গায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে।

তবে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বহু দেশে জনসম্মুক্ষে এবং যানবাহনে যৌন নির্যাতনের হার অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি সাধারণ জনগণ ব্যবহৃত যানবাহনে মহিলারা ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ঘটনারও শিকার হয়ে থাকেন। মহিলারা রিপোর্ট করেছেন যে, তারা যানবাহনে সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন এবং এটা নিয়ে তারা রীতিমত আতঙ্কে থাকেন। এই ধরনের অভিজ্ঞতা মহিলাদের মাঝে ট্রমা তৈরি করে। যার ফলে নানা ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

প্রভাব
সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যে যৌন নির্যাতনের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। কারণ হিসেবে বলা যায় এর উচ্চহার এবং এর নেতিবাচক প্রভাবও অত্যন্ত তীব্র। যৌন নির্যাতনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে।

এ ছাড়াও ব্যক্তি চাকরি হারাতে পারে, আয় কমে যেতে পারে, এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, এই ধরনের যৌন নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের মধ্যে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একটি গবেষণা থেকে দেখা যায় যাদের যৌন নির্যাতনের ইতিহাস আছে এবং যারা ঘনঘন এই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয় তুলনামূলকভাবে তাদের মধ্যে ট্রমা বেশি দেখা যায়।

যদিও এটি নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে এবং অনেকেই এর বিরোধিতা করেছেন। তবে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার তৈরি না হলেও তাদের আরও অন্যান্য মানসিক জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে। যেমন, বিষণ্নতা, উদ্বেগজনিত ডিসঅর্ডার, শুচিবায়ুতা ইত্যাদি। এ ছাড়াও ভুক্তভোগী নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা গড়ে তলে। সে মনে করে এর জন্য সেই দায়ী। এই ধরনের চিন্তা ব্যক্তির মধ্যে হীনমন্যতার অনুভূতি তৈরি করে। যা থেকে আরও অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি করে।

উত্তরণের উপায়
গবেষণা থেকে দেখা যায় মহিলাদের সম অধিকার নিশ্চিত হলে এই ধরনের ঘটনা কমতে পারে। এ ছাড়াও জন সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এই ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য। তবে যারা ইতোমধ্যে এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং এ সম্পর্কিত আমাদের সমাজের ধ্যানধারণাও বদলাতে হবে। যেমন, আমরা আক্রমণকাররি বদলে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করে থাকি। এছাড়া ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে।