এমসি কলেজে গণধর্ষণ: সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জানুয়ারি

ঢাকা, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১ | ২২ ফাল্গুন ১৪২৭

এমসি কলেজে গণধর্ষণ: সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

print
এমসি কলেজে গণধর্ষণ: সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জানুয়ারি

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ বুধবার (২৭ জানুয়ারি) নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক এ আদেশ দেন।

আজ মামলার শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও চাঁদাবাজির মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ একসঙ্গে গ্রহণের আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে দিয়ে বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পিপি রাশিদা সাঈদা খানম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এদিন আদালতে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও আরেক আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি ছাড়াও মামলার অপর ছয় আসামি তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে এদিন কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এর আগে ১৭ জানুয়ারি আলোচিত এই মামলার অভিযোগ গঠন করে ২৪ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে এ মামলায় আট ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

এতে সাইফুর রহমানকে প্রধান করে ছয়জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণে জড়িত থাকা এবং অপর দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে মামলার পুলিশ এজাহারভুক্ত মামলার আট আসামিকে আদালতে হাজির করলে সকল আসামির উপস্থিতেই মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে আসামি করা হয়।

পরে ৩ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ছিলো। এদিন বাদীর পক্ষে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুজন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী।

এ ঘটনায় রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার নারী। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে পাঁচদিন করে রিমান্ডে পেল পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিলেট মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান এ ঘটনায় গ্রেফতার আরও তিনজনের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে পাঁচদিন করে রিমান্ডে পেল পুলিশ। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিন আসামিকে রিমান্ডে নেয়া হয়।