তিন মাসের মধ্যে ওটিটি নীতিমালার খসড়া তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭

তিন মাসের মধ্যে ওটিটি নীতিমালার খসড়া তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

print
তিন মাসের মধ্যে ওটিটি নীতিমালার খসড়া তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

হইচই, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, বঙ্গবিডিসহ ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্মে অশ্লীলতা রোধ ও রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তিন মাসের মধ্যে নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করে হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ওই খসড়া প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। ১৮ জানুয়ারি, সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ।

আইনজীবী তানভীর আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পূর্ব নির্দেশনা অনুসারে আজ আদালতে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের পক্ষ থেকে দুটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে বিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হইচই, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, বঙ্গবিডির মতো প্লাটফর্ম থেকে দেশে কোনও রাজস্ব আদায় হয় না। কোনও ধরনের রেগুলেশন না থাকায় সেটি আদায় হচ্ছে না। একইভাবে সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং পর্নগ্রাফি আইন থাকলেও প্ল্যাটফর্ম থেকে অশ্লীলতা রোধে সুনির্দিষ্ট কোনও নীতিমালা নাই। যার ফলে সব সময় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এ কারণে যদি এই ধরনের একটি নীতিমালা হয় তাহলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সুবিধা হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত একটি খসড়া নীতিমালা করে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিতর্কিত ওয়েব সিরিজ থেকে ‘অনৈতিক, নিন্দনীয় ও আইন বহির্ভূত’ ভিডিও’র অংশগুলো সরিয়ে ফেলতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রীয়তা এবং খামখেয়ালী কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওয়েব সিরিজের মনিটরিংয়ের জন্য কেন একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে না, রুলে তাও জানতে চান আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি পূর্বের আদেশ অনুসারে চার সপ্তাহের মধ্যে ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে (ওটিটি প্লাটফর্ম) ছড়িয়ে পড়া ওয়েব সিরিজের ‘অনৈতিক, নিন্দনীয় ও আইন বহির্ভূত’ ভিডিও’র অংশগুলো সরিয়ে ফেলতে এবং এসবের সঙ্গে পরিচালক-প্রযোজকসহ জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি নেটফ্লিক্সের মতো অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে কীভাবে সরকারি রেভিনিউ সংগ্রহ করেন তাও আদালত বিটিআরসি’র কাছে জানতে চান।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন বাংলাদেশি ওয়েব সিরিজের বিতর্কিত অংশ বাদ দিতে সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। তবে সে নোটিশের কোনও জবাব না পেয়ে তিনি গত ১২ জুলাই হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দিলেন।

রিটের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয় সচিব, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সচিব, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজি, শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক, পরিচালক (লিগ্যাল) বিটিআরসি, সাইবার পুলিশ ব্যুরোর ডিআইজিকে বিবাদী করা হয়।