রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে সাহেদ-মাসুদ

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে সাহেদ-মাসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

print
রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে সাহেদ-মাসুদ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভজকে ১০ দিনের রিমান্ড শেষে আজ সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নেয়া হয়েছে। রোববার  র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র (পরিচালক) লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাহেদকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় একটি আস্ত্র মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় আজ সাতক্ষীরার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, আজ তার বিরুদ্ধে রিমান্ডের কোন আবেদন থাকলে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, না থাকলে ঢাকার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিতে পারে। যদি তার সাতক্ষীরায় রিমান্ড হয়েও যায়, তাহলে ঢাকার কারাগার থেকে তাকে সেখারকার কারাগারে পাঠানো হবে। সেখান থেকে নিয়ে সেই মামলা র‌্যাব তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

এদিকে ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও গুলি ভর্তি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জাল টাকা মামলা ও সাতক্ষীরার দেবহাট্রা থানায় অবৈধ অস্ত্র ও ম্যাগজিন ভর্তি গুলি উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের দায়ের করা মামলা তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালায় যাচাই-বাছাই শেষে র‌্যাবকে তদন্তের অনুমোদন দেয় বলে জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

গ্রেফতারের পর (১৬ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিমের আদালতে সাহেদ ও মাসুদ পারভেজকে হাজির করে রিমান্ডের আবদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাহেদ ও মাসুদ পারভেজের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে গতকাল শনিবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) মিজানুর রহমানের দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে জড়িত ৭৬ শ্রমিকের ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় তাকে এ রিমান্ডে নেয়া হয়।

এর আগে শনিবার ভোরে গোপালগঞ্জের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

মেট্রোরেল প্রকল্পে কর্মরত ৭৬ কর্মীকে ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে ২০ জুলাই রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়।

মেট্রোরেলের একটি সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের রেজাউল করীম বাদি হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ করিমসহ হাসপাতালের কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

এদিকে সাহেদের প্রধান সহযোগী তরিকুলকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার দুই দফা রিমান্ড শেষে তারিকুলকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তরিকুল সেচ্চায় জবানবন্দি দেয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। এসময় ৮জনকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।