আদালতে তুলকালাম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১০ মাঘ ১৪২৬

দাখিল হয়নি খালেদার মেডিকেল রিপোর্ট

আদালতে তুলকালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

print
আদালতে তুলকালাম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই দিন অবশ্যই প্রতিবেদন দাখিল করার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিনও ঠিক করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা দাখিলের জন্য সময় চায়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতের ভেতরে ও বাইরে দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ন্যায় বিচার চেয়ে আদালতের ভেতরে স্লোগান দেন। অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সরকারপন্থি আইনজীবী নেতারা এ ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন, আর আদালতে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে দায়ী করেছেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবী নেতারা।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে আজ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। শুনানি শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে জানান, কিছু পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন দিতে হবে, এজন্য সময় দরকার। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আগের একটি প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি করার আবেদন করেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কর্তৃত্ব হাসপাতালের, জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানির বিরোধিতা করেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর জানিয়ে জামিনের শুনানিতে দেরি না করার জন্য বার বার তাগিদ দেন জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনসহ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ সময় আদালতের ভেতরেই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন দুপক্ষের আইনজীবীরা। আাগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হলে অনেক দেরি হবে উল্লেখ করে এর আগেই শুনানির আবেদন করেন খালেদা জিয়ার কৌঁসুলিরা।

ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন অভিযোগ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শেই মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। এ সময় আদালতকক্ষে আইনজীবীরা হইচই করতে থাকেন। চিৎকার করে ন্যায় বিচার ও খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন জানাতে থাকেন তার আইনজীবীদের একাংশ। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত কক্ষেই বসে থাকেন।

প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেন বলেন, তারা আপিল বিভাগে এর আগে কখনো এমন অবস্থা দেখেননি। আদেশ দেওয়া হয়ে গেছে, আদালতে বসে না থাকতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান, তবে হইচই চলতে থাকায় বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতের ওপর অবৈধ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে তাই রিপোর্ট দিতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতকে অবমাননাকর অবস্থায় নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলার জন্য এক পর্যায়ে আদালত উঠে যান। এটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ জানান।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট না আসাকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যে অভাবনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তা দুঃখজনক। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নূর তাপস অভিযোগ করেন, বিএনপি আদালত প্রাঙ্গণকে অচল করার পাঁয়তারায় লিপ্ত। সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুসহ আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ার জন্য সরাসরি অ্যাটর্নি জেনারেলকে দায়ি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তার সব দায়-দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেলের। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণেই জামিন দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসনের প্রতি বিএনপির কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের কাছে নিরাপদ নয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে কারাবন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরান কারাগারে রাখা হলেও গত কয়েক মাস ধরে চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে রাখা হচ্ছে।