সিএনজি চালককে হত্যায় চারজনের যাবজ্জীবন

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সিএনজি চালককে হত্যায় চারজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক ৭:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

print
সিএনজি চালককে হত্যায় চারজনের যাবজ্জীবন

ছয় বছর আগে রাজধানীর কাফরুলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আলমগীর হোসেনকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া তাদের প্রত্যেকের ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উত্তর কাফরুলের কামরুল ইসলাম (২৫), সুমন ওরফে চোর সুমন (২৩), এমএম সাইফুল্লাহ (৫০) ও আবু শামা। তাদের মধ্যে দুজন পলাতক। বাকি দুজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা বিভিন্ন ধরনের নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে এলাকাবাসীকে বিরক্ত করত। তাদের এসব কাজে বাধা দেয়ায় রাতে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে নিহতের বাসায় ইটপাটকেল ছুড়ে। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ দিবাগত রাত পৌনে ২টায় নিহতের বাড়িতে তারা ডাব খেয়ে খোসা ছুড়ে মারে। পরে আলমগীর (নিহত) ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং গভীর রাতে এ রকম উৎপাত করতে নিষেধ করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দণ্ডিতরা রাত ৪টার দিকে আবার ওই বাড়িতে যান এবং নিহতের স্ত্রী এই মামলার বাদী হাজেরা বেগমকে (৩২) বলেন, আলমগীরকে বের করে দেন তার সাথে কথা আছে। হাজেরা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ঘুমিয়ে পড়েছে।’ এ কথা বলায় দণ্ডিতরা চলে যান।

পরদিন বাড়িওয়ালা এবাদুল্লাহকে জানালে সে মীমাংসা করে দেবেন বলে জানান।

তবে মীমাংসার আগেই ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় আলমগীরকে লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও বঁটি দিয়ে আক্রমণ করে। হত্যার উদ্দেশ্যে তারা কিলঘুষি মারে। ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাজেরা বেগম বাদী হয়ে ১৮ মার্চ কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে কামরুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় বিভিন্ন সময় ১৬ জন সাক্ষ্য দেন এবং আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন চারজন।