সম্রাটের নামে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

অস্ত্র মামলা

সম্রাটের নামে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

print
সম্রাটের নামে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন।

র‌্যাবের চার্জশিট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন।

গত ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তার সঙ্গে আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

পরে ৬ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে সম্রাটের কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এছাড়াও র‌্যাব-১ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে। দুই মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক।

গত ৭ অক্টোবর রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো-পূর্বক ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত ১৫ অক্টোবর অস্ত্র মামলায় পাঁচদিন ও মাদক মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। ২৪ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

জানা যায়, রাজধানীর জুয়াড়িদের কাছে সম্রাট বেশ পরিচিত ছিল ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ নামে। সম্রাটের নেশা ও ‘পেশা’ জুয়া খেলা। তিনি একজন পেশাদার জুয়াড়ি। প্রতি মাসে অন্তত ১০ দিন সিঙ্গাপুরে যেতেন জুয়া খেলতে। সেখানে টাকার বস্তা নিয়ে যেতেন তিনি। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন জুয়াড়িরা। কিন্তু সেখানেও সম্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। প্রথম সারির জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে। এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’যোগে।

সম্রাটের অফিস রাজধানীর কাকরাইলে রাজমণি সিনেমা হলের উল্টোপাশে। সেখানেই দলবল নিয়ে বেশিরভাগ সময় থাকতেন সম্রাট। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে চলত ভিআইপি জুয়া খেলা। প্রতিদিনই ঢাকার একাধিক বড় জুয়াড়িকে সেখানে জুয়া খেলার আমন্ত্রণ জানানো হতো। সেখানে সম্রাটের দাপট ছিল একচ্ছত্র, খেলার নিয়ম ছিল ভিন্ন। সেখান থেকে জিতে আসা যাবে না। কোনো জুয়াড়ি জিতলেও তার টাকা জোরপূর্বক রেখে দেওয়া হতো।