নুসরাতের দুই বান্ধবীর কথাও রেকর্ড করেন

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে জবানবন্দি

নুসরাতের দুই বান্ধবীর কথাও রেকর্ড করেন

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

print
নুসরাতের দুই বান্ধবীর কথাও রেকর্ড করেন

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তার মোবাইলে নুসরাত জাহান রাফী ছাড়াও তার দুই বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফুর্তির ভিডিও ধারণ করেন। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিতে এসে এ তথ্য জানান নুসারতের এই দুই বান্ধবী। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গতকাল আদালতে জবানবন্দি দিতে এসেছিলেন ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতের দুই বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফুর্তি। ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করেন নুসরাতের মা।

সেই মামলার জের ধরে নুসরাতসহ অন্যদের থানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস করার অভিযোগে নুসরাতের মৃত্যুর পর ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে মামলাটির শুনানি চলছে।

এ মামলায় জবানবন্দি দিতে এসে নুসরাতের বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি বলেন, গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানি নিয়ে যে মামলাটি হয়েছিল সেই মামলায় নুসরাত, নিশাত, নুসরাতের আম্মা ও আমাকে থানায় ডাকা হয়। থানায় যাওয়ার পর ওসি মোয়াজ্জেম নিশাতকে বাইরে যেতে বলেন। উনি (মোয়াজ্জেম) বলেন আগে এই দুজনের কথা শুনি। আমি ও নুসরাত যখন ওসির রুমে বসেছিলাম তখন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন তার ভিডিও করেন। নুসরাত অপ্রস্তুত ছিল। সে মুখ ঢাকছিল। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বারবার তাকে মুখ থেকে হাত সরাতে বলেন। নুসরাতের জিজ্ঞাসা শেষ হলে তখন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমার বক্তব্য ভিডিও করে। তখন আমাকে নেকাব খুলে কথা বলতে বলে। কিন্তু খুলতে না চাইলে তিনি বলেন, নেকাব থাকলে কথা শুনতে পারছি না। তুমি নেকাব খুলে জোরে কথা বলো। তারপর নিশাতকে ডেকে আনে। পরে নিশাতের বক্তব্য ভিডিও করে। এরপরে সবাই চলে আসি। কিছুদিন পর দেখতে পাই নুসরাতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

নাসরিন সুলতানা ফুর্তি জবানবন্দি শেষে বিচারকের অনুমতি নিয়ে বলেন, স্যার, ওসি মোয়াজ্জেম যদি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন তাহলে নুসরাত আগুনে পুড়ে মারা যেত না।

এরপর জবানবন্দি দেন নুসরাতের বান্ধবী নিশাত সুলতানা। তিনি বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সেখানে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়। তখন পুলিশ এসে অধ্যক্ষসহ আমাদের থানায় নিয়ে যান। আমি, ফুর্তি, নুসরাত ও অধ্যক্ষের সঙ্গে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের রুমে যাই। আমাকে জিজ্ঞাসবাদের সময় উনার মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও করেন।

তারপর ভিডিও করার কারণ জানতে চাইলে, ওসি বলেন মামলার জন্য ভিডিও লাগবে। তার কিছুদিন পর ইউটিউব, ফেসবুকে ভিডিওটি প্রচার হয়। এটা নিয়ে ফেনীতে গণ্ডগোল ও মানববন্ধন হয়।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফী সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।