১২ বছরের শিশু মানব পাচারের আসামি

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

১২ বছরের শিশু মানব পাচারের আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৯

print
১২ বছরের শিশু মানব পাচারের আসামি

কক্সবাজারের ১২ বছর বয়সী শিশু মানব পাচার মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছে। সোমবার মাকে সঙ্গে নিয়ে জামিন শুনানিতে হাজির হলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের বেঞ্চ তা মঞ্জুর করেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জামান আকতার বুলবুল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘একদম ছোট্ট একটা ছেলে। বয়স সর্বোচ্চ ১২ বছর হবে। আদালত তাকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।’ আইনজীবী আকতার বুলবুল বলেন, ‘ছেলেটির জন্ম ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট।

অথচ ২০১৪ সালের ২০ জুন এবং গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বরের দুটি ঘটনায় মানব পাচার আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। প্রথম ঘটনার সময় শিশুটির বয়স ছিল সাত বছরের একটু বেশি। আর দ্বিতীয় ঘটনার সময় বয়স ১১ বছরের মতো। অথচ মামলায় বয়স দেখানো হয়েছে ২২ বছর।’

তিনি আরও বলেন, ‘রামু থানার পুলিশ গত ১৪ অক্টোবর শিশুটিকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে যায়। কিন্তু তাকে দেখার পর গ্রেফতার না করে ফিরে যায়। তখন পুলিশের মনেও এই প্রশ্ন জাগে, এইটুকু বাচ্চা কীভাবে মানব পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত!’

পরে গত বৃহস্পতিবার অন্য আসামির সঙ্গে হাইকোর্টে এসে জামিন আবেদন করে শিশুটি। গতকাল সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত তাকে জামিন দেন। শুনানিতে শিশুটিকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বেঞ্চের একজন বিচারক শিশুটির মামলায় জড়ানোর বিষয়কে ‘অমানবিক’ বলেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৪ অক্টোবর রামুর হাজি পাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৪১) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলায় রামুর চাকমারকুল এলাকার ওই শিশুসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। ২০১৪ সালের ২০ জুন ও ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের দুটি ঘটনার উল্লেখ করা হয় ওই মামলায়।

অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে, ভালো বেতনে মালয়েশিয়ায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৪ সালে ২১ জুন বাদী ও অন্য ভিকটিমদের কক্সবাজারের লামুনীচর থেকে জাহাজে তুলে দেয় আসামিরা। কয়েকদিন পর থাইল্যান্ড উপকূলে পাহাড়ের মধ্যে জঙ্গলে তাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দালাল চক্রের লোকজন মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে স্বজনদের ফোন নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই আসামি (শিশু) এবং মামলার প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি ফোন করে ভিকটিমের স্বজনদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। পরে আসামিদের আরও ১ লাখ টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান মামলার বাদী নুরুল ইসলাম। ২০১৭ সালের জুনে মালয়েশিয়ায় পুলিশের অভিযানকালে তিনি আটক হন। এক বছর জেল খাটার পর দেশে ফিরে এসে মামলা করেন।