৫ দিনের রিমান্ডে সম্রাটের বন্ধু আরমান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

৫ দিনের রিমান্ডে সম্রাটের বন্ধু আরমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ১:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

print
৫ দিনের রিমান্ডে সম্রাটের বন্ধু আরমান

মাদক মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে পাঁচদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এনামুল হক আরমানের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ‘ক্যাসিনো গুরু’ হিসেবে পরিচিত। মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি ও সম্রাটের বন্ধু।

একইদিন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার সম্রাটকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। আজ ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। সম্রাটের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন অস্ত্র মামলায় ৫ দিন ও মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। রমনা থানার অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে সম্রাটকে আদালতে আনার খবরে সকাল থেকেই তার কর্মি ও সমর্থকরা ভিড় জমাচ্ছেন আদালত সত্বরে।

পুলিশের বাধা উপক্ষো করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের গেট ও মূল গেটে অবস্থান করছেন তারা। এ সময় ‘ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট মুক্তি পরিষদের’ ব্যানারে পুরা আদালত চত্বর পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে।

পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘সম্রাটের হাতে হাতকড়া রাজনীতিবিদরা চরম লজ্জিত’। ‘সম্রাট খুবই অসুস্থ মানবতার জননী তাকে বাঁচান।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাদের যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে গত ০৭ অক্টোবর সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন।

আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার জুয়াড়িদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। জুয়া খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরেও যেতেন জুয়া খেলতে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাববের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

এর পর ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। প্রকাশ্যে চলে আসে সুন্দর অবয়বের আড়ালে সম্রাটের কুৎসিত জগৎ। এতে করে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট।