রিফাত হত্যা: অভিযুক্ত ৬ কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

রিফাত হত্যা: অভিযুক্ত ৬ কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
রিফাত হত্যা: অভিযুক্ত ৬ কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর কারাগারে থাকা ১৪ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। মামলার দিন ধার্য থাকায় মঙ্গলবার সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে তাদের হাজির করা হয়। পরে আদালতের কার্যক্রম শেষে গ্রেফতার ছয় কিশোরকে খুলনার শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এরা হলেন- রিশান ফরাজী, তানভীর, চন্দন, অলি, নাজমুল ও শ্রাবণ। আর বাকি অভিযুক্তদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এছাড়াও আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জানান, আজ এ মামলার ধার্য তারিখ থাকায় রিফাত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আদালত তাদের খুলনার শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, এ মামলায় অভিযুক্ত চন্দন ও টিকটক হৃদয়ের জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে এই আদালতে মামলার মূল নথি না থাকায় কোনো আদেশ দেননি বিচারক। এছাড়া অভিযুক্ত শ্রাবণের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে আদালতে এজন্য কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার আদেশ দেন।

এর আগে গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। যার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সাড়া দেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শাকে। কিন্তু আয়শার শ্বশুর মামলার ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে আয়শা জড়িত এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার পর মামলাটির তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়।

পরবর্তীতে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিন্নিকে। আর এই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২ জুলাই এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।