জিয়া-ফারাবিসহ ছয়জনের বিচার শুরুর আদেশ

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অভিজিৎ রায় হত্যা

জিয়া-ফারাবিসহ ছয়জনের বিচার শুরুর আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

print
জিয়া-ফারাবিসহ ছয়জনের বিচার শুরুর আদেশ

ব্লগার ও মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় সেনাবাহিনীতে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ও উগ্রপন্থী ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবিসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ (১ আগস্ট) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন রাখেন। এ মামলার আসামিরা হলেন- সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, শফিউর রহমান ফারাবি, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস্, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ।

এদের মধ্যে জিয়াউল ও আকরাম ছাড়া বাকি চার আসামিকে অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে হাজির করা হয়। পলাতক দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আগেই জারি হয়েছে। এর মধ্যে জিয়াকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।

কারাগারে থাকা কয়েকজন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ। তখন আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে স্ত্রী রফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে মারাত্মক আহত হন তার স্ত্রী। চাপাতির কোপে তার একটি আঙ্গুল পড়ে যায়। পরদিন অভিজিতের বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় হত্যামামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর গত ১৩ মার্চ এ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। অভিযোগের পক্ষে ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। এ মামলার আসামিদের মধ্যে ফারাবি ছাড়া অন্য সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।