অভিজিৎ হত্যা: মামলার বিচার শুরু

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অভিজিৎ হত্যা: মামলার বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

print
অভিজিৎ হত্যা: মামলার বিচার শুরু

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সুতরাং অভিযোগ গঠনের ফলে মামলার অনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের পেশকার রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল ঢাকা সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ছয়জনের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়া হয়েছে তা গ্রহণ করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
আসামি মোজাম্মেল হুসাইন, আকরাম হোসেন, হাসান ও আবু সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৯২/২ নম্বর বাসাটি ভাড়া নিয়ে অভিজিত রায়কে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণসহ হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন। আসামি মোজাম্মেল রেকি টিমের নেতৃত্ব প্রদান করাসহ অপারেশন শাখার মকুল রানাকে অনুসরণসহ এ হত্যাকাণ্ডের সার্বিক সহযোগিতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

অপরদিকে আসামি আবু বকর, আকরাম ও হাসান ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যার অভিপ্রায়ে অনুসরণ এবং রেকি করাসহ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

আসামি আরাফাত রহমান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তু আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অপারেশন শাখার সদস্য সাংগঠনিকভাবে তাদের দায়িত্ব ছিল টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করা। সেমতে অভিজিতকে তারা চারজনই মিলে চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

পাশাপাশি অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও কুপিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধা আঙুল কেটে ফেলে এবং মারাত্মক আহত করে।

অপারেশন শাখার চারজন আসামি যাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে তার জন্য তাদের চারপাশে আসামি মেজর জিয়া, সেলিম, মুকুল রানা, মোজাম্মেল, আবু সিদ্দিক, আকরাম ও হাসান অভিজিৎ রায়কে কোপানোর সময় কর্ডন করে রাখে।

অভিজিৎ হত্যকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস) এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা নেই।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন ব্লগার অভিজিৎ রায়। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ। পরে শাহবাগ থানায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার (একিউআইএস) ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারের খবর দেয় জঙ্গিগোষ্ঠীর ইন্টারনেট ভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করা ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।’ অবশ্য নানা মহল থেকে বরাবরই বলে আসছে, এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর কোনো সম্পর্ক নেই।