নারী নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নুসরাত হত্যা মামলা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

নারী নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নুসরাত হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:১৫ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

print
নারী নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নুসরাত হত্যা মামলা

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেনীর সোনাগাজী আমলী আদালতের বিচারক জাকির হোসেন এ মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন ১০ জুন। সেদিনই আলোচিত এ মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ট্রাইবুনালে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু।

এর আগে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ করে চার্জশিট দিলেও তাতে ফেনীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম নেই; যার বিরুদ্ধে নুসরাত হত্যার পর মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, আসামিদের সহায়তা প্রদান এবং ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বাদীপক্ষ। প্রয়োজনে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি জানানো হবে বলে জানিয়েছে তারা।

বুধবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে এ চার্জশিটটি জমা দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম চার্জশিটটি জমা দেন।

ঘটনার ৫০ দিনের মাথায় মামলাটির চার্জশিট দেওয়া হলো। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন চলতি বছরের আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত। গত ২৬ মার্চ নুসরাতের মা শিরীনা আক্তার মামলা করার পরদিন সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার হল থেকে মাদ্রাসার একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় বোরকা পরা কয়েকজন। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাত ১০ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে মারা যান।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর ৮ এপ্রিল তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান অধ্যক্ষ সিরাজকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আর দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যে মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে দেওয়া হয় পিবিআইয়ের হাতে।

গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ৮০৮ পৃষ্ঠার চার্জশিটে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আসামি করা হচ্ছে নুসরাতকে হত্যার ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে। তার নাম আছে আসামির তালিকার ১ নম্বরে। এ ছাড়া ওই মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন এবং সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম ওই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ আছে পিবিআইয়ের চার্জশিটে।

মৃত্যুর আগে হাসপাতালে পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে নুসরাত তার গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে যান। পরে আসামিরা একে একে গ্রেফতার হতে থাকে, আদালতে তাদের দেওয়া জবানবন্দি থেকে হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত জানতে পারেন তদন্তকারীরা। অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা কারাগারে থেকেই নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে উঠে আসে পিবিআইয়ের তদন্তে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহাজান বলেন, ধারা অনুযায়ী মামলাটির বিচারকাজ চলবে নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে। সেক্ষেত্রে আমলি আদালত থেকে মামলাটি ওই ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। এরপর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের ওপর শুনানি হবে।

পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল জানান, পিবিআই মামলা তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার ৫০ দিনের মধ্যে ৩৩ কার্যদিবসে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করেছে। বলেন, ‘অভিযোগপত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত পাঁচজনসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন ও সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম ওই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’

চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামি হলেন : ১. সোনাগাজীর চরকৃষ্ণজয়ের কলিম উল্যাহ সওদাগর বাড়ির কলিম উল্যার ছেলে এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), ২. চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মো. আহসান উল্যাহর ছেলে নুর উদ্দিন (২০), ৩. চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূইয়া বাজারে এলাকার নবাব আলী টেন্ডল বাড়ির মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), ৪. পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) ও চরগণেশ গ্রামের পা-ব বাড়ির আহসান উল্যাহ ছেলে মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আল কাউন্সিলর (৫০), ৫. পূর্ব তুলাতলী গ্রামের খায়েজ আহাম্মদ মোল্লা বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), ৬. উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের সৈয়দ সালেহ আহাম্মদের বাড়ির রহমত উল্যাহর ছেলে জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), ৭. সফরপুর গ্রামের খান বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), ৮. সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও উত্তর চারচান্দিয়া গ্রামের সওদাগর বাড়ির ইবাদুল হকের ছেলে আবছার উদ্দিন (৩৩), ৯. চরগণেশ গ্রামের আজিজ বিডিআর বাড়ির আব্দুল আজিজের (পালক বাবা) মেয়ে কামরুন নাহার মনি (১৯), ১০. লক্ষ্মীপুর গ্রামের সফর আলী সর্দার বাড়ির শহিদুল ইসলামের মেয়ে উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), ১১. পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের সোজা মিয়া চৌকিদার বাড়ির আব্দুল শুক্কুরের ছেলে আবদুর রহিম শরীফ (২০), ১২. চরগণেশ গ্রামের হাজী ইমান আলীর বাড়ি ওরফে মালশা বাড়ির জামাল উদ্দিন জামালের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ১৩. চরগণেশ গ্রামের এনামুল হকের নতুন বাড়ির এনামুল হক ওরফে মফিজুল হকের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), ১৪. তুলাতলী গ্রামের আলী জমাদ্দার বাড়ির সফি উল্যাহর ছেলে মোহাম্মদ শামীম (২০), ১৫. সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চরচান্দিয়া গ্রামের ভূইয়া বাজার এলাকার কোরবান আলীর বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৫৫), ১৬. উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বোর্ড অফিস সংলগ্ন রুহুল আমিনের নতুন বাড়ির মো. রুহুল আমিনের ছেলে মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসা আসামিদের ভূমিকা

সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশসহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার ৫০ দিনের মাথায় পিবিআইএ এ চার্জশিট দিতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে আসামিদের নানা ভূমিকা। চার্জশিটে কোন আসামির কী ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিম্নরূপ-

সিরাজ-উ-দৌলা : সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ না নিলেও ‘তার চেয়ে বেশি’ করেছেন। নুসরাতের যৌন হয়রানির মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ, তাতে কাজ না হওয়ায় ভয়-ভীতি দেখানো এবং পরে নুসরাতকে হত্যার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে।

নূর উদ্দিন : নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নূর উদ্দিনের। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার আগে রেকি করা ছিল তার দায়িত্ব। আর ভবনের ছাদে আগুন দেওয়ার সময় নিচে থেকে পুরো ঘটনার তদারকি করা ছিল তার দায়িত্ব।

শাহাদাত হোসেন শামীম : নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন শামীম। সেজন্য ছিল তার ক্ষোভ। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে কার কী ভূমিকা হবে সেই পরিকল্পনা সাজান শামীম। কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি তার বোরখা ও কেরোসিন কেনার ব্যবস্থা করেন। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় তিনি হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকা ও কেরোসিন ঢালতে ব্যবহৃত প্লাসটি উদ্ধার করে পিবিআই।

সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম : অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা গ্রেফতার হলে ২৮ মার্চ তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ। বোরকা ও কেরোসিন কেনার জন্য তিনিই ১০ হাজার টাকা দেন। পিবিআই বলছে, পুরো ঘটনার আগাগোড়াই তিনি জানতেন।

সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের : বোরখা ও হাতমোজা পরে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন জোবায়ের। নুসরাতের ওড়না ছিঁড়ে দুই ভাগ করে পা বাঁধা এবং কেরোসিন ঢালার পর ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরানোর কাজটি তিনিই করেন।

জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ : বোরকা পরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন জাবেদ। পা বাঁধা হলে পলিথিন থেকে কেরোসিন গ্লাসে ঢেলে তিনি নুসরাতের গায়ে ছিটিয়ে দেন। সব কাজ শেষে বোরকা খুলে পরীক্ষার হলে ঢুকে যান।

হাফেজ আবদুল কাদের : নুসরাতের ভাই নোমানের বন্ধু কাদের সেদিন মাদ্রাসার মূল ফটকে পাহারায় ছিলেন। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হলে দুই মিনিট পরে তিনিই ফেন করে নোমানকে বলেন, তার বোন গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

আবছার উদ্দিন : ঘটনার সময় তিনি গেটে ছিলেন পাহারায়। মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়াও তার দায়িত্ব ছিল।

কামরুন নাহার মনি : আসামি শামীমের দূর সম্পর্কের ভাগ্নি কামরুন্নাহার মনি দুই হাজার টাকা নিয়ে দুটি বোরকা ও হাতমোজা কেনেন। হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশ নেন। ছাদের ওপর নুসরাতের হাত বাঁধা হলে তাকে শুইয়ে ফেলে বুকের ওপর চেপে ধরেন মনি। আগুন দেওয়া হলে নিচে নেমে এসে আলিম পরীক্ষায় বসেন।

উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা : অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি সেদিন নুসরাতকে ডেকে ছাদে নিয়ে যান। পরে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তাতে রাজি না হওয়ার নুসরাতের ওড়না দিয়ে তার হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলেন। নুসরাতকে ছাদে শুইয়ে চেপে ধরেন পা। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়ে গেলে পপিও নিচে নেমে পরীক্ষার হলে বসেন।

আবদুর রহিম শরীফ : ঘটনার সময় তিনি মাদ্রাসার ফটকে পাহারায় ছিলেন। পরে তিনি ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালান।

ইফতেখার উদ্দিন রানা : মাদ্রাসার মূল গেটের পাশে পাহারায় ছিলেন।

ইমরান হোসেন ওরফে মামুন : মাদ্রাসার মূল গেটের পাশে পাহারায় ছিলেন।
মোহাম্মদ শামীম : সাইক্লোন সেন্টারের সিঁড়ির সামনে পাহারায় ছিলেন। কেউ যেন ওই সময় ছাদে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা ছিল তার দায়িত্ব।

মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমীন : পিবিআই বলছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন শুরু থেকেই এ হত্যা পরিকল্পনায় ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর শামীমের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টাতেও তার ভূমিকা ছিল।

মহিউদ্দিন শাকিল : ঘটনার সময় সাইক্লোন সেন্টারের সিঁড়ির সামনে পাহারায় ছিলেন।