রাজীবের ক্ষতিপূরণের রায় ২০ জুন

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

রাজীবের ক্ষতিপূরণের রায় ২০ জুন

পরিবারের প্রত্যাশা পাঁচ কোটি টাকা

ছাইফুল ইসলাম মাছুম ১:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৯

print
রাজীবের ক্ষতিপূরণের রায় ২০ জুন

সরকারি তিতুমীর কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী রাজীবের হাত হারানোর পর মৃত্যুতে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিটের রায় পিছিয়েছে। আদালত আগামী ২০ জুন রায়ের নতুন দিন ধার্য করেছেন। রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে নিহত রাজিবের এতিম দুই ভাইয়ের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। আদালতের রায়ে কতটা ক্ষতিপূরণ পাবে রাজিবের দুই ভাই, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও ২৭ দিন।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের নতুন দিন ধার্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আবেদনকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস। বিআরটিসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাতার হোসেন।

এর আগে ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুলসহ কয়েকটি বিষয়ে রুলের শুনানি শেষে ১৯ মে হাইকোর্ট ২৩ মে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল খোলা কাগজকে বলেন, ‘রাজীবের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এবং সাধারণের সড়ক নিরাপত্তা প্রশ্নে আদালত যে রুল জারি করেছিলেন, সে রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। ২৩ মে রায়ের কথা ছিল, এখন আদালত আগামী ২০ জুন রায়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো চেয়েছি পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, এখন আদালত কি রায় দেন সেটা বলা মুশকিল।’

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ী গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে। কখনো টিউশনি করে, কখনো বা পার্টটাইম কাজ করে নিজে পড়াশোনা করেছেন এবং দুই ভাইকেও পড়াচ্ছিলেন।

রাজীবের এক ভাই মেহেদী হাসান রাজধানীর যাত্রাবাড়ী তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন, আরেক ভাই মোহাম্মদ আব্দুল একই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। দুই ভাই থাকেন মাদ্রাসা হোস্টেলে।

মেহেদী হাসান খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমাদের দুই ভাইয়ের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই, ভাই ছিল আমাদের বাবা-মা। ভাই ছাড়া আমাদের প্রতিটি দিন আনন্দহীন, কষ্টের। মেহেদী বলেন, ‘ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার, ভাই তো নেই, এখন আমরা দুই ভাই বিসিএস ক্যাডার হয়ে ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ করব।’

গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় দুই বাসের রেষারেষিতে হাত কাটা পড়ে রাজীবের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।