শিক্ষক শফিউল হত্যাকাণ্ড: ৩ জনের ফাঁসির রায়

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯ | ৬ বৈশাখ ১৪২৬

শিক্ষক শফিউল হত্যাকাণ্ড: ৩ জনের ফাঁসির রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

print
শিক্ষক শফিউল হত্যাকাণ্ড: ৩ জনের ফাঁসির রায়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলায় তিনজনেকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকেরাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় দেন।আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আট আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আব্দুস সালাম পিন্টু, সবুজ ও আরিফুল ইসলাম মানিক। এদের মধ্যে সবুজ পলাতক। বাকি দুজন রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পিন্টু ও মানিক যুবদলের নেতা। মামলার বাকি আট আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, পিন্টুর স্ত্রী নাসরিন আক্তার রেশমা, সিরাজুল ইসলাম কালু, আল-মামুন, সাগর, জিন্নাত আলী, ইব্রাহীম খলীল ও আরিফ।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক শফিউলকে। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর প্রধান সন্দেহভাজন পিন্টুসহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে পিন্টুর স্ত্রী রেশমাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জেরে তার স্বামী যুবদল নেতা পিন্টু লোকজন নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ড. শফিউল ইসলাম লিলনকে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর ড. শফিউল ইসলামকে ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাকে হত্যার দায় স্বীকার করে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২। ফেসবুক পেজে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতিও দেয় সংগঠনটি। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি পুলিশ।