অভিজিৎ হত্যা: ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

অভিজিৎ হত্যা: ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

print
অভিজিৎ হত্যা: ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। অপরদিকে সাদেক আলী ওরফে মিঠুসহ ১৫ জনকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বুধবার (১৩ মার্চ) ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে এই চার্জশিটটি দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৩৪ জনকে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি জন্য আগামী ২৫ মার্চ দিন ধার্য রয়েছে।

শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন- সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া (চাকরিচ্যুত মেজর), মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আকরাম হোসেন ওরফে আবির, মো. মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে হাদী, মো. আরাফাত রহমান, শফিউর রহমান ফারাবি। মেজর জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।

অভিজিৎ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়া
লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন মাস্টারমাইন্ড সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর (চাকরিচ্যুত) জিয়া। আর কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেন ডিবির সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত মুকুল রানা। ‘বিশ্বাসে ভাইরাস’ ও ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ নামক দুটি বইকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের টার্গেটে পড়েন অভিজিৎ। হত্যাকাণ্ডে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও সরাসরি অংশ নেয়া তিনজনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে দাখিল হচ্ছে চার্জশিট। আর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ফারাবি বাদে বাকি সাতজনকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

এর আগে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পরই আমরা কিছুসংখ্যক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছি। যাদের নাম-ঠিকানা আমরা জানতাম না। তাদের ধরতে সাংগঠনিক নাম আর ছবি প্রচার করে আমরা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলাম। ওই সময় একজন মাত্র আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল যার নাম মুকুল রানা। তবে তিনি গ্রেফতারকালে ডিবির সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন। এরপর আর কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ফারাবি সরাসরি অভিজিৎ হত্যায় জড়িত ছিল না। তবে তিনি অভিজিতের ফেসবুকে বলেছিল, একে (অভিজিৎ) কেউ কোপায় না কেন? দেশে আসলে একে কুপিয়ে কুপিয়ে খণ্ড খণ্ড করতে হবে। তবে যে গ্রুপটি অভিজিৎকে হত্যা করেছে তাদের সাথে ফারাবির সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। তবে তার প্ররোচনামূলক ফেসবুক পোস্ট কিলারদের প্ররোচিত করেছে বলে তাকে ক্যাটালিস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওই তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ ও তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণাদি সবকিছু মিলে স্পষ্ট হয়েছে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী- সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত পলাতক মেজর জিয়া। তার নেতৃত্বে মোট ১১ জন এই ঘটনাটি সংঘঠিত করেছে।

তাদের আরও মারকাজ ছিল উত্তরাতে। তবে তাদের অপারেশনাল হাউস ছিল ধানমন্ডিতে। ওই ঘটনার রেকি করার দায়িত্ব ছিল সায়মন ও সোহেল রানার। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের আশেপাশে উপস্থিত ছিলেন মূল মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়া ও সেলিম নামে এক সহযোগী। প্রয়োজনে তারাও এগিয়ে আসতো। তবে তারা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেনি।

অভিজিৎ হত্যার মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছে মুকুল রানা। যিনি ডিবি পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাকি তিনজন সোহেল রানা, সায়মন ও আরাফাত তাদেরকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গ্রেফতার করেছে। তবে এখনও গ্রেফতারের বাইরে রয়েছে কয়েকজন। যাদের পূর্ণ নাম-ঠিকানা এখনও জানা যায়নি। তাদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশের বইমেলা চলাকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে ফুটপাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়কে। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী বন্যা আহমেদও হামলার শিকার হয়ে একটি আঙুল হারান।

পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিৎ থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি মুক্তমনা ব্লগ সাইট পরিচালনা করতেন তিনি। জঙ্গিদের হুমকির মুখেও বইমেলায় অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন তিনি।