পুলিশের বিরুদ্ধে এজাহার পাল্টানোর অভিযোগ মায়ের

ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

খুলনায় ব্যবসায়ী ইয়াসিন হত্যা

পুলিশের বিরুদ্ধে এজাহার পাল্টানোর অভিযোগ মায়ের

খুলনা ব্যুরো
🕐 ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২১

পুলিশের বিরুদ্ধে এজাহার পাল্টানোর অভিযোগ মায়ের

খুলনার দিঘলিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে উপজেলার পথেরবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইয়াসিন শেখ (৪২) হত্যা মামলার এজাহার পাল্টানোর অভিযোগ উঠেছে। ৩২জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ জমা দিলেও পুলিশ ১৫জনকে আসামি রেখে এজাহার রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মামলার বাদী ও নিহতের মা হাফিজা বেগম খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদ সন্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাফিজা বেগম বলেন, গত ২৫ জুলাই রাতে আমার ছেলে ইয়াসিন শেখকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২৭ জুলাই আমি ও আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্য একটি লিখিত এজাহার নিয়ে মামলা করার জন্য দিঘলিয়া থানায় উপস্থিত হই। আমার ছেলে ইয়াসিনকে যারা হত্যা করেছে, ইন্ধন যুগিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে তাদের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার থানায় জমা দেই। পুলিশ আমাকে বলে, মামলা নেওয়া হবে একটু বসেন।

আমি ২ ঘণ্টারও বেশি থানায় বসে থাকি। এরপর পুলিশ একটি কাগজ এনে বলেন, এখানে স্বাক্ষর করেন। আমি বললাম এটি কি? জবাবে বলে, মামলা হয়েছে তাই স্বাক্ষর করতে হবে। আমি সরল মনে স্বাক্ষর করে চলে আসি। বাড়ি এসে রাতে শুনতে পাই আমি যে অভিযোগটি দাখিল করেছি পুলিশ সেই অভিযোগ পাল্টে ফেলে তাদের লেখা এজাহারে আমার স্বাক্ষর করিয়ে মামলা রেকর্ড করেছে। এত বড় প্রতারণা দেখে ইয়াসিন হত্যার বিচার নিয়ে আমি শঙ্কিত।

আমি যে অভিযোগপত্র দিয়েছিলাম সেখানে ৩২ জনকে আসামি করেছিলাম ও স্বাক্ষীর নাম উল্লেখ ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্ত পুলিশ যে অভিযোগপত্র রেকর্ড করেছে তাতে ১৫ জনকে আসামি করেছে। সেই সাথে মামলার স্বাক্ষীর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে। যে সকল আসামি আমার ছেলেকে কুপিয়েছে তাদের অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত কেন এমনটি করা হলো? আমি প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের কাছে এর সুবিচার চাই।

প্রসঙ্গত, ইয়াসিন শেখের মা হাফিজা বেগমের দাখিলকৃত এজাহারে যাদের নাম ছিল- তারা হচ্ছে- জিয়া গাজী, মিজান গাজী, মোছা গাজী, বিলায়েত মোল্লা, জিয়া মোল্লা, শাহিন গাজী, মাসুদ, সলেমান গাজী, কাজল গাজী, কামরুল গাজী, ইমরান গাজী, একলাছ গাজী, ছত্তার, হাসান, সানি, ইরশাদ, ইকতার, রহিম গাজী, আনোয়ার, মুজিবর, শরিফুল, সাইফুল, রাকিব, ট্যারা সোহেল, শওকাত, ইশারত, হামজা, রমজান গাজী, তাহের, ইমরান গাজী ও পলাশসহ অজ্ঞাত ৬/৭জন।
তবে, থানায় রেকর্ডকৃত এজাহারেরর আসামিরা হচ্ছে- জিয়া গাজী, মিজান গাজী, কাজল গাজী, কামরুল গাজী, বিলায়েত মোল্লা, জিয়া মোল্লা, ইমরান গাজী, একলাছ গাজী, ইরান, সানি, ইকতার, ইশারাত গাজী, মুজিবর, হাসান মল্লিক ও পলাশ মোল্লাসহ অজ্ঞাত ৬/৭জন।

এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রিপন কুমার সরকার বলেন, পুলিশ সুপার স্যার, সার্কেল অফিসার স্যারের উপস্থিতিতে ২৭ জুলাই নিহত ইয়াসিন শেখের মা হাফিজা বেগম আমাদের কাছে যে এজাহার দিয়েছেন সেটাই আমরা মামলা হিসাবে রেকর্ড করেছি। এ সংক্রান্ত সকল প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 
Electronic Paper