জাল সার্টিফিকেটে চাকরি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৭ বৈশাখ ১৪২৮

জাল সার্টিফিকেটে চাকরি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

print
জাল সার্টিফিকেটে চাকরি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে জাল সার্টিফিকেটে চাকরি করে ফেঁসে গেছে শিলা রানী বিশ্বাস নামে এক স্কুল শিক্ষিকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী পদে শিক্ষকতা করে আসছেন। চাকরির ১০ বছর পর সনদ যাচাইয়ে ধরা পড়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে থানায় মামলা করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ২২২৫ স্মারকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই সংক্রান্ত বিষয়ে বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর এনটিআরসিএ একটি চিঠি প্রেরণ করে। চিঠিতে শিলা রানী বিশ্বাস, পিং-প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান), তার ৫ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০০৯-এর সার্টিফিকেটটি জাল ও ভুয়া উল্লেখ করা হয়। বলা হয় রোল নম্বর অনুত্তীর্ণ।

প্রাপ্ত নম্বর আবশ্যিক ৪১, ঐচ্ছিক ২১। একই সঙ্গে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেটে চাকরি করার অপরাধে বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে থানায় মামলা করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হয়।

এর আগে ০৮/৯/২০২০ তারিখ এনটিআরসিএ পক্ষ থেকে বেসরকারি ও জাতীয়করণকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক সত্যায়িত শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ফটোকপির সঙ্গে নিয়োগপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি নিয়োগের স্বপক্ষে উপর্যুক্ত প্রমাণাদি প্রেরণ করতে বলা হয়।

সেই মোতাবেক বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৬ জন শিক্ষকের সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এনটিআরসিএ দপ্তরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কেবলমাত্র শিলা রানী বিশ্বাস এর শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি দালিলিকভাবে জাল ও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয় মর্মে এনটিআরসিএ ৭ ডিসেম্বর ২০২০ জানায়।

এনটিআরসিএ থেকে চিঠি পেয়ে ম্যানেজিং কমিটি ১০/১২/২০২০ তারিখের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক কাজী টিপু সুলতান বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় ১০ ফেব্রুয়ারি ৪০৬, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে উপজেলার কলাতলা গ্রামের স. ম. ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষিকা শাকিলা পারভীনের বিরুদ্ধেও এনটিআরসিএ থেকে ২য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০০৬-এর সনদ জাল ও ভুয়া বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪৭ নং স্মারকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষক কেএম রাজু আহম্মেদ বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি আমি ওই চিঠি হাতে পাই। সামনে ম্যানেজিং কমিটি ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিতলমারী থানার ওসি মীর শরীফুল হক জানান, সহকারী শিক্ষিকা শীলা রানী বিশ্বাসের নামে বড়বাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী টিপু সুলতান বিদ্যালয়ের পক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।