যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সরকারি সুবিধাবঞ্চিত রোগীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৭ বৈশাখ ১৪২৮

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সরকারি সুবিধাবঞ্চিত রোগীরা

যশোর প্রতিনিধি ৯:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

print
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সরকারি সুবিধাবঞ্চিত রোগীরা

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা সরকারি সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং বিনামূল্যের ওষুধ সামগ্রী ঠিকমতো না পাওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসক ও কর্মচারী নিজেই রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছেন। বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুরও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ জানান, অনিয়ম ছাড়া কীভাবে রোগীরা চিকিৎসাসেবা পেতে পারে তার সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের রোস্টার রয়েছে। অনিয়মের কোনো অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতালের সকল কর্মকাণ্ড নিয়মের মধ্যে পরিচালনা করার জন্য বর্তমান কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহরের খোলাডাঙ্গার ফারুক হোসেন জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সালমা খাতুনকে (২৮) অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে রোগীকে সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়নি। যন্ত্রণার মাঝেই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত আয়ার উপস্থিতিতে সন্তান প্রসব করে। শহরের বেজপাড়া এলাকার মামুন জানান, তার স্ত্রীকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসেননি। পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে রোগীর সিজার করানো হয়।

বসুন্দিয়া এলাকার গোলাম রসুল জানান, তার ভাইয়ের জখমি সনদ নিতে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি সাড়ে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে জখমি সনদ নিয়েছেন। আসাদুল ইসলাম, কবিরুল ইসলাম, শফিয়ার রহমানসহ কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে দুইদিন বিনামূল্যের কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। ইনজেকশন ওমিপ্রাজল, সেফট্রিঅ্যাকসন পর্যন্ত তাকে কিনতে হয়েছে।

চুড়ামনকাটি গ্রামের আতাউর রহমান জানান, বহির্বিভাগে এক চিকিৎসক বিনামূল্যের ডমপেরিডন ওষুধ লিখলেও ফার্মেসি থেকে বলা হয়েছে সরবরাহ নেই। কিন্তু হাসপাতালে ৮৪ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে ইডিসিএল ৪৪ প্রকার ও স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট ৪০ প্রকার ওষুধ কর্তৃপক্ষ কেনেন। কিন্তু রোগীর স্বজনদের ভাষ্যমতে, দামী কোনো ইনজেকশন, ওষুধ, লিলেন সামগ্রী ও গজ ব্যান্ডেজ রোগীদের দেওয়া হয় না।