লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭

লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের

যশোর প্রতিনিধি ৯:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

print
লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের

যশোরের মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে উপজেলার ২ শীর্ষ নেতার ভোটের লড়াই হবে। বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর ভিন্ন মাত্রার জমজমাট প্রচার-প্রচারণায় আড়োলন সৃষ্টি হলেও প্রচারে এগিয়ে আছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। নির্বাচনে ৩ জন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের লড়াই হচ্ছে কাজী মাহমুদুল হাসানের নৌকা প্রতীকের সঙ্গে শহীদ ইকবাল হোসেনের ধানের শীষ প্রতীকের।

জানা যায়, আগামী ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন। আওয়ামী লীগের মনোনীত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান (নৌকা), বিএনপি মনোনীত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন (ধানের শীষ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাস্টার আবু তালেব হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১২টি গ্রামের সমন্বয়ে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে এ পৌরসভা গঠিত। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সে মোতাবেক এর উন্নয়নের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় প্রায় অর্ধ লাখ মানুষের বসবাস। মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৮৩৬ এবং মহিলা ১১ হাজার ১২৯ জন।

প্রধান ২ প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা ও ধানের শীষের ২ হেভিওয়েট প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন খুব জোরেশোরে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উভয় প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনায় অবিরাম গতিতে ছুটে চলেছেন। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের ২ হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ধীরে ধীরে পাড়া-মহল্লায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস পাড়ায় চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। সেই সঙ্গে থেমে নেই দৈনিক পত্রিকা, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

এ সমস্ত প্রচার-প্রচারণা, আলোচনা-সমালোচনা আর সাধারণ ভোটারদের মতামতকে প্রাধান্য দিলে বলা যায় উভয় প্রার্থীই যোগ্য এবং দু’জনের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে কেউ কেউ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন। কারণ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান চলমান সময়ে পৌর মেয়র হিসেবে ব্যাপক উন্নয়নসহ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের সহায়তায় পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছেন। তা ছাড়া সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নে নৌকার প্রার্থীর বিকল্প নেই-এমনটি মনে করেন সুধিজনরা। তা ছাড়া অতীতের সকল ভুল ভ্রান্তি দূরীভূত করে মণিরামপুরের আওয়ামী লীগ এখন একাট্টা হয়ে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে পাস করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগসহ দলটির সকল পর্যায়ের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এলাকা ভাগ করে নিয়ে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে যাচ্ছেন। যে কারণে সাধারণ ভোটাররা অনেকটা কাজী মাহমুদুল হাসনের নৌকা প্রতীকের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন। এ হিসেবে জয়ের পাল্লাটা তার দিকেই বেশি।

এক্ষেত্রে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনেটা পিছনে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন এ রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করছে। তা ছাড়া সরকারবিরোধী বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত দলটির নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি মূলদল বিএনপিসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ উপজেলায় লবিং-গ্রুপিং এখন চরম পর্যায়ে।

দলের বৃহৎ একটি অংশ ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ মোহাম্মদ ইকবালের ঘোর বিরোধী। দলীয় সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়ে যদিও তারা ধানের শীষের বিরোধী কোনো মনোভাব দেখাচ্ছেন না-তবুও এ পক্ষ কি করবে সেটা ভাবার বিষয়।