চুরি নয় নবজাতককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা, মা-বাবা আটক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

চুরি নয় নবজাতককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা, মা-বাবা আটক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

print
চুরি নয় নবজাতককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা, মা-বাবা আটক

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালীতে দিন-দুপুরে চুরি হওয়া নবজাতক শিশু সোহানের মরদেহ ৩৬ ঘন্টা পর বাড়ির বাথরুমের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৭ নভেম্বর, শুক্রবার রাত ১টার দিকে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। এদিকে, পরিকল্পিতভাবে নবজাতকটিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় মা-বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে ২৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মায়ের পাশ থেকে নবজাতকটি চুরি হয়ে গেছে বলে প্রচার দেয় নবজাতকটির মা ফাতেমা বেগম। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন তার বাবা সোহাগ হোসেন।

এদিকে, শুক্রবার সকালে সদর থানা পুলিশ ও পিবিআই পৃথকভাবে চুরি হওয়া শিশুটি উদ্ধারে কাজ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেনকে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে সেফটি ট্যাংকের ভিতর থেকে নবজাতকটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার হাওয়ালখালি গ্রামের সোহাগ হোসেন ও ফতেমা দম্পত্তি। তাদের ১৫ দিনের নবজাতক মায়ের পাশ থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে চুরি হয়ে গেছে বলে প্রচার করা হয়। ঘটনার পরপরই তদন্ত কাজ শুরু করে পুলিশ। কয়েক দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়।

এরপর নবজাতকের বাবা ও মায়ের স্বীকারোক্তি মতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর সেফটি ট্যাংকের ভিতর থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত শিশুটির বাবার চাপে মা শিশুটিকে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়। হত্যার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, শিশুটি জন্মের পর থেকে অসুস্থ। হার্ড, কিডনিতে সমস্যা। এই বাচ্ছাকে রেখে বড় করতে গেলে নিজেরাই অসুবিধায় পড়বেন ভেবে পরিকল্পিতভাবে বাবা ও মা দুজন মিলে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।