ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ড্রাগন চাষিরা

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ড্রাগন চাষিরা

কামরুজ্জামান তোতা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) ৮:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

print
ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ড্রাগন চাষিরা

কালীগঞ্জ উপজেলায় ৩০ একর জমিতে ২০ জনেরও বেশি চাষি চাষ করছেন এই ড্রাগন ফল। উৎপাদন নিয়ে নেই সংশয়। ২০১৪ সালে প্রথম ড্রাগন চাষ করেন কৃষক বোরহান উদ্দিন।

উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি ড্রাগন চাষে আগ্রহী হন ফুল ও স্টবেরি চাষি বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আশরাফ হোসেন স্বপন। তিনিও একই বছর ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারা এনে ২৫ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ করেন।

এরপর শিবনগর গ্রামের সুরোত আলী ১৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেন। স্থানীয় বাজারসহ রাজধানী ঢাকা ও অন্য জেলায় এ ফলের চাহিদা বেড়েছে। প্রচুর পুষ্টি গুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি ও রক্তের কোলেস্টরেল কমায়। তিনি প্রথম বছর এক বিঘা জমিতে ৫৮০টি ড্রাগনের চারা রোপন করেন। সঠিক পরিচর্যা করায় ১৬ মাসে গাছে পরিপুষ্ট ফল আসে।

তিনি জানান, পিলার, টায়ার, গোল আকৃতি করে লোহার রড় তৈরি, সেচ, সার ও পরিচর্যা বাবদ তার প্রথম বছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। প্রথম বছর তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি ফল চারশ থেকে আটশ টাকায় বিক্রি করেন। যশোর, ঢাকা ও খুলনাসহ স্থানীয় বাজারে তিনি এ ফল বিক্রি করেন।

চাষি সুরোত আলী জানান, তিনি প্রথমে ১২ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় ১২ বিঘা থেকে বাড়িয়ে ১৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। দেড় বছরে গাছে ফল আসতে শুরু করে। জুলাই-আগস্টের মধ্যে ফল পাকতে শুরু করে। সাধারণত ফুল আসার ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মাথায় ফল পেকে যায়। একটি পরিপুষ্ট পাকা ফলের ওজন প্রায় তিনশ থেকে চারশ গ্রাম হয়। বছরে একাধারে প্রায় তিন থেকে চার মাস ফল সংগ্রহ করা যায়। ড্রাগন গাছ একবার লাগালে ওই গাছ কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর ফল দেয়। সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা কেজি দরে ফল বিক্রি হয়। প্রায় ১৮ মাস পরে গাছে ফল আসে।

এক বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে ফল আসা পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়। চাষী গোলাম কিবরিয়া জানান, তিনি ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের সানবান্ধা মাঠে ২০১৭ সালে দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেন।

প্রথম বছরে জমিতে মাটি ভরাট, চারা কেনা, রড, পিলার, টায়ার, বেড়া দিয় চারদিক ঘেরা, জৈব সার, রাসায়নিক সার ও মজুরি বাবদ খরচ পড়েছে ৫ লাখ টাকা। পরের বছর পরিচর্যা ও লেবার খবর বাদে আর কোনও খরচ লাগেনি। এক বছর পর ছয় লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেন। খরচ বাদে ওই বছর তার এক লাখ টাকা লাভ থাকে।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, কালীগঞ্জের দুইজন চাষি ক্যাটকাস প্রজাতির এ ফলের চাষ প্রথম শুরু করেন। তাদের দেখাদেখি এখন অনেকে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। লাভজনক এ ফসলের চাষে আমরা তাদের প্রশিক্ষণসহ কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। কৃষকরাও মনে করছে এ বছরে তাদের ফলন আরো বৃদ্ধি পাবে।