মোংলায় সারি সারি গাড়ি

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মোংলায় সারি সারি গাড়ি

আবুল হাসান, মোংলা ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

print
মোংলায় সারি সারি গাড়ি

মোংলা বন্দরে পড়ে আছে সারি সারি গাড়ি। আমদানিকারকদের মামলায় তৈরি হওয়া জটিলতায় দিন দিন বাড়ছে গাড়ির এই সারি। স্থান সংকুলান না হওয়ায় দিনের পর দিন রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থাকছে খোলা আকাশের নিচেই। ফলে পড়ে থাকা আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। সম্প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষ নিলাম প্রক্রিয়া ফের শুরু করেছে। মিলছে না তেমন সাড়া। এসব কিছুর জন্য আমদানিকারকদের দায়ের করা মামলাকে দায়ী করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ আমদানিকারকদের অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি। আর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. হোসেন আহম্মেদ।

মোংলা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এ আরও) মো. মহিদ রিয়াদ জানান, মোংলা বন্দর ব্যবহার করে দুই শতাধিক গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। নিয়মানুযায়ী আমদানি করা গাড়ি বন্দরে পৌঁছার ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় করিয়ে নিতে হয়। আর না নিলে সরকারি নিলামের তালিকায় চলে যায় এসব গাড়ি। পরে শুল্ক ও রাজস্ব আদায়ে কাস্টম কর্তৃপক্ষ তা নিলামে তোলে। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত গত এক বছরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচ হাজার ৬৫৩টি রিকন্ডিশন গাড়ি নিলামে ওঠে। এর মধ্যে মাত্র ৬টি গাড়ি ক্রেতারা ছাড় করাতে পেরেছেন। এদিকে চলতি বছরের মার্চে নিলামে তোলা হয় ৫০টি গাড়ি। এর মধ্যে মাত্র ২টি গাড়ির জন্য দরপত্র জমা পড়লেও গাড়ি ছাড় হয়নি একটিও। সহকারী এ রাজস্ব কর্মকর্তা আরও বলেন, আমদানিকারকদের মামলার কারণে ক্রেতারা নিলামে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড বেইকেলস ইমপোটারস অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোশিয়েসন (বারবিডা) সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘যদি কেউ মামলায় যায়, কেন যায়, আসলে আমি জানি না। হয়তো মামলা করা একটা মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারÑ এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ তবে এ ব্যাপারে মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. হোসেন আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের সঙ্গে কথা বলেছি, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে এই সমস্যার সমাধান করব।’

বন্দর সূত্র জানায়, রাজধানীর সঙ্গে দূরত্ব কম হওয়ায় ২০০৯ সাল থেকে দেশে আমদানি করা গাড়ি খালাস হয় মোংলা বন্দর দিয়ে। গত রোববার পর্যন্ত গত ৯ বছরে এই বন্দর দিয়ে মোট গাড়ি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮১৯টি। সে হিসেবে দেশে মোট আমদানির ৬০ ভাগ গাড়ি আসে মোংলা বন্দরে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের বন্দরে বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে তিন হাজার ২৪টি গাড়ি আছে। বর্তমানে দুই হাজার ৬০০ গাড়ি অকশনের তালিকায় আছে। যার মধ্যে ৪৬৫টি গাড়ি ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আমদানিকৃত।

জানা যায়, দশ বছর ধরে পড়ে থাকা গাড়িগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। আরও সময় গেলে তা উপযোগিতা হারাবে বলেও মনে করছেন অনেকে।