রাজস্ব আদায় ব্যাহত

ঢাকা, রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাজস্ব আদায় ব্যাহত

শিশির কুমার সরকার, বেনাপোল ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

print
রাজস্ব আদায় ব্যাহত

যশোরের বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃক শুল্কায়ন ও পণ্য পরীক্ষণে নানা হয়রানির প্রতিবাদে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। এদিকে শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, বেনাপোল কাস্টমসে কোনো কাজ করার পরিবেশ নেই। শুল্কায়ন গ্রুপের সুপারিন্টেনডেন্ট যা খুশি তাই করতে চান। আমদানিকৃত পণ্যের একটি ফাইল গ্রুপে নিয়ে গেলে তারা ইচ্ছামত এইচএস কোড পরিবর্তন করে এবং ভ্যালু পরিবর্তন করতে চান। তারা আগের কোনো এইচএস কোড বা রেফারেন্স মূল্য, ডাটাশিট মূল্য মানতে চান না। জোর করে ১০% এর মাল ২৫% এ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে কাস্টমসের ৩ নম্বর শুল্কায়ন এবং ৪ নম্বর গ্রুপে। এ দুই গ্রুপে কর্মরত দুই কাস্টমস অফিসাররা এ ধরনের কাজ করে থাকেন। এসব গ্রুপে একের অধিক স্টাফ ফাইল নিয়ে গেলে তাদের অনেক সময় বের করে দেওয়া হয়। এসব হয়রানির কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ৩ নম্বর এবং ৪ নম্বর গ্রুপের শুল্কায়ন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বেনাপোল কাস্টমসের একটি পরীক্ষার গ্রুপ ইনভেস্টিগেশন রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) কর্তৃক পণ্য পরীক্ষা নিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমদানিকৃত একই পণ্য এখন ৩ বার পরীক্ষণ করতে হচ্ছে। একবার ইন্সপেক্টর মাল পরীক্ষণ করে আসার পর সে পণ্য আবার সুপারিন্টেনডেন্ট পরীক্ষণ করতে যাচ্ছেন। এরপর রাতে ডেপুটি কমিশনার আবারও সেই একই মাল পরীক্ষণ করছেন। তিনবার আলাদাভাবে পরীক্ষণের কারণে তিনবার লেবার খরচ দিতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই পণ্য বারবার পরীক্ষণ করার কারণে সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক দিন। একটি পণ্য পরীক্ষণ করে তার রিপোর্ট নিতে এখন সময় লাগছে ৭ থেকে ১০ দিন। অনেক সময় ১৫ দিনও সময় লেগে যাচ্ছে। এসব হয়রানির প্রতিবাদে আমাদের কোনো স্টাফ বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কাজ করতে চাচ্ছে না। তাছাড়া আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাজ করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা জানান, কাস্টমস অফিসার কর্তৃক পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছি। এর একটা সুরাহা হওয়া উচিত। কাস্টমস অফিসাররা মনে মনে যা কিছু করবেন তার সব মেনে নেওয়া যায় না। তারা ইচ্ছামতো শুল্কায়নে কাজ করছেন। তারা কোনো এইচএস কোড ও রেফারেন্স বা ডাটাশিট মূল্য মানতে চান না। কাস্টমসের আইনের বলে ডাটাশিটে সর্বনিম্ন মূল্যে আমদানিকৃত পণ্য অ্যাসেসমেন্ট করার কথা থাকলেও কাস্টমস অফিসাররা সেটা মানেন না। তারা সব সময় উচ্চতর মূল্যে শুল্কায়ন করতে চায়। বাংলাদেশের সকল কাস্টমস হাউসে ডাটাশিট মূল্য মানলেও ব্যতিক্রম শুধু বেনাপোল কাস্টমস হাউসে। বেনাপোলে মিনিমাম মূল্য, ডাটাশিট মূল্য বা রেফারেন্স মূল্য মানা হয় না। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা রাজস্ব টার্গেট পূরণের লক্ষ্যে ইচ্ছামতো পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ করেন। ইচ্ছামতো আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করায় আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব হয়রানির কারণে আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি ছেড়ে দিচ্ছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, বেনাপোল কাস্টমসে হয়রানির শেষ নেই। মাল প্রবেশ থেকে শুরু করে পরীক্ষণ ও শুল্কায়নে নানাবিধ হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে সরকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব হয়রানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ না হলে আগামীতে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।