চিনিশিল্পের অবসরভোগীরা পাননি কানাকড়িও

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

হয়েছে অর্থ বরাদ্দ, রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

চিনিশিল্পের অবসরভোগীরা পাননি কানাকড়িও

বিশ্বাস আব্দুর রাজ্জাক, কালিগঞ্জ, ঝিনাইদহ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০

print
চিনিশিল্পের অবসরভোগীরা পাননি কানাকড়িও

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অবসর ভোগীরা পাচ্ছেন না গ্রাচুইটিসহ অন্যান্য পাওনাদির কানাকড়িও। অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। মাথার ওপরে বাড়ছে ঋণের বোঝা। এদিকে কৃষকরাও তাদের আখ বিক্রির টাকা পেতে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। অথচ দুই বছর আগেই প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেওয়া হয়েছে অর্থ বরাদ্দ, রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও।

জানা যায়, ২০১৮ সালে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও অবসর ভোগীদের পাওনাদি পরিশোধের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। সে সময় ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং আখের মূল্য পরিশোধ ও বিভিন্ন উপকরণ ক্রয় বাবদ ২৫০ কোটি টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ২ দফায় ২৫০ কোটি টাকা করপোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু করপোরেশনের চেয়ারম্যান ওই টাকা অন্য খাতে সরিয়ে নিয়েছেন বলে রয়েছে অভিযোগ। ফলে অবসর ভোগীদের ভাগ্যে জোটেনি এই বরাদ্দের কোনো টাকা। কৃষকরাও পায়নি তাদের আখ বিক্রির টাকা।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের ২৮ মে এক স্মারকে চিনি শিল্পের কর্মচারী প্রবিধানমালা ১৯৮৯ এর ৫১ ধারা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে পিআরএল ভোগ শেষে যারা অবসরে গেছেন এবং জীবিত আছেন তাদের উৎসব ভাতা, মাসিক চিকিৎসা ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়। অথচ চিনিশিল্প সংস্থা ২০১৯ সালের ১২ জুনের এক বোর্ড সভায় এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিলেও কাগজেই সীমাবদ্ধ রেখেছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবসরপ্রাপ্তরা জানান, আখশিল্পে সততার সঙ্গে কাজ করেছি। টাকাকড়ি জমিয়ে রাখিনি। রাখিনি বলতে জমাতে পারিনি। সততার সঙ্গে বেতন থেকে বাঁচিয়ে টাকা জমিয়ে রাখা যায় না। ফলে শেষ বয়সে পেনশনের টাকা না পেয়ে ঋণ করে চলতে হচ্ছে। এখন কেউ ঋণও দিতে চায় না।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিনিশিল্পের কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন ও অবসরপ্রাপ্তদের পাওনাদি পরিশোধে বরাদ্দ দিয়েছেন বলে আমরা জানি। শিল্প মন্ত্রণালয়ও নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু এই শিল্প সংশ্লিষ্টদের বড়কর্তাদের গায়ে বাতাস লাগেনি। এটা প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ধৃষ্টতারই শামিল বলে আমরা মনে করি।

চিনি শিল্পের অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবু তাহের ভুইয়া জানান, পিআরএল শেষ হওয়ার পরদিনই সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের টাকা পরিশোধ করা হয়। অথচ সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বৃদ্ধ বয়সে অবসরে গিয়ে পাওনা গ্রাচুইটি পেতে ৮/১০ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন।

অর্থাভাবে চিকিৎসা তো দূরের কথা, সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে ঋণের বোঝা মাথায় করে হতাশা নিয়ে মৃত্যুকে বরণ করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ কর্মচারীদের প্রতি এ এক নিষ্ঠুর আচরণ।

কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব ফেরদৌস ইমাম জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান সরকার প্রবীণদের জন্য অনেক কল্যাণের অঙ্গীকার করেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আর্থিক সহায়তা দানের জন্য বাজেটও পাশ করেছেন।

যার সুবিধা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্য সংস্থাগুলো ভোগ করলেও চিনি শিল্পের অবসর ভোগীরা বঞ্চিত রয়েছেন। এটা কল্যাণকর সভ্য সমাজের জন্য বেমানান, অপমান ও লজ্জার।