সম্ভাবনার হাতছানি মোংলা বন্দরে

ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ১১ কার্তিক ১৪২৭

সম্ভাবনার হাতছানি মোংলা বন্দরে

আবুল হাসান, মোংলা ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

print
সম্ভাবনার হাতছানি মোংলা বন্দরে

দেশে আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মোংলা বন্দর। সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে আগামী দুই বছরের মধ্যে এ বন্দরের আয়ও বাড়বে কমপক্ষে চারগুণ। বর্তমানে গাড়ি আমদানিতে এগিয়ে থাকা এ বন্দরের রাজস্ব আয়ও বাড়ছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, পশুর নদীর নাব্য সংকট নিরসন করে ও জেটির সংখ্যা বাড়লে আগামীতে এ বন্দর আধুনিক বন্দরে রূপ নেবে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার সঙ্গে ৭০ কিলোমিটারের দূরত্ব কম হওয়ায় চট্টগ্রামের পর আমদানি-রপ্তানিতে সচল হয়ে উঠছে মোংলা বন্দর। নির্মাণের ২০ বছর মৃতপ্রায় বন্দরটি সচল করতে ২০০৯ সালে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয়।

গতি বাড়াতে এরই মধ্যে ঢাকা-মোংলা চারলেন সড়ক, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্প। বর্তমানে আমদানি-রপ্তানির ছয় থেকে আটভাগ সম্পন্ন হয় এ বন্দর দিয়ে। উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, মোংলাকেন্দ্রিক ইপিজেড নির্মাণ ও বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হলে সেটি ২০ ভাগে উন্নত করা সম্ভব বলে মনে করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান।

তিনি খোলা কাগজকে বলেন, এক সময় এ বন্দরে বছরে জাহাজ আসত ১০০টি। এখন মাসেই আসে ১০০টি জাহাজ। একইভাবে গত ১০ বছরে এ বন্দরে ৩০ ভাগ কার্গো ও ৪০ ভাগ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে। ভবিষ্যতে এর কার্যক্রম বাড়াতে হলে সক্ষমতা আরও কয়েকগুণ বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্যে বন্দরের মূল পাঁচটিসহ মোট ১৩ জেটির পাশাপাশি আরও নয়টি জেটি নির্মাণেরও পরিকল্পনা আছে।

বন্দরের চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পশুর চ্যানেল আছে। এ চ্যানেলের নাব্য বৃদ্ধি করা, মোংলা-খুলনা রেল যোগাযোগ হবে, পদ্মা সেতু যখন নির্মাণ শেষ হবে, তখন মোংলা বন্দরের ব্যবহার চারগুণ বেড়ে যাবে।

এদিকে বন্দরের সবচেয়ে বড় সমস্যা নাব্য সংকট। যেখানে পণ্যবাহী বড় জাহাজ আনলোড করতে হয় বন্দর চ্যানেলের অদূরে হারবাড়িয়া পয়েন্টে। বন্দর ব্যবহারকারী ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম ও এইচ এম দুলাল বলেন, হারবাড়িয়ার ৭, ৮, ৯ ও ১০ বয়ায় ড্রেজিং করা হলে এ বন্দরের গতি আরও বাড়বে। আর পশুর চ্যানেলের নাব্য বৃদ্ধি ও চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ করে মোংলাকে আধুনিক বন্দর করতে পারলে দেশের বাণিজ্যে নতুনমাত্রা যোগ হবে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

নাব্য সংকট নিরসনের বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. শতকত আলী বলেন, আমাদের জেটি থেকে হারবাড়িয়া ১০ নম্বর বয়া পর্যন্ত (ইনারবার) ড্রেজিংয়ের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির দরপত্রও গ্রহণ করা হয়েছে। এখন এর মূল্যায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলে পশুর চ্যানেলে নাব্য সংকটও দূর হবে।