আমার স্কুল তো আছে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

আমার স্কুল তো আছে

বি এম ফারুক, যশোর ১০:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

print
আমার স্কুল তো আছে

চারমাস ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ। ইচ্ছা থাকলেও যেতে পারছে না স্কুল পানে। পড়–য়া মনটা স্কুলে থাকলেও বাধ্য হয়ে বাড়িতেই রেখেছে সবাই। শহরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে ক্লাস হলেও গ্রামে তার ছিটেফোঁটাও পড়ছে না। তাই সময় কাটছে টিভি দেখে, মোবাইলে গেইম খেলে আর অসময়ের খেলাধুলায়। তাতে কিছুটা বিরক্তও হচ্ছেন অভিভাবকরা। কিন্তু কি আর করা, কেউ  তো জানে না কবে করোনাভাইরাসের প্রভাব স্বাভাবিক হবে। আবারও খুলবে স্কুল-কলেজ, ভিড় হবে হাট-বাজারে এমনটাই চিন্তা কোমলমতি শিশুদের চোখে-মুখেও।

তাই এই ক্রান্তিকালে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার জন্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে অতিথি ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে যশোরের বাঘারপাড়ার বলরামপুর গ্রামে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আমার স্কুল নামের একটি অস্থায়ী স্কুল। যেখানে সকালে নয় প্রতিদিন বিকেলে স্কুলের বই, বিনোদন, ক্যারিয়ার, সমসাময়িক ও কম্পিউটার বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করছে স্কুল থেকে শুরু করে করে‌ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। হ্যাঁ এ স্কুলে শিক্ষক ওই গ্রামের কলেজ ও ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তবে আমার স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের কোনো টাকা দিতে হয় না। আবার শিক্ষকরাও দিচ্ছেন স্বেচ্ছাশ্রম। সবার একই কথা করোনায় স্কুল বন্ধ তো কি হয়েছে, আমার স্কুল তো আছে।

রুটিন মাফিক সপ্তাহে তিনদিন (৮ম-এইচএসসি পর্যন্ত) বড়দের আর তিনদিন (২য়-৭ম শ্রেণি পর্যন্ত) ছোটদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আর প্রতি শুক্রবার সবাইকে এক সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার শিক্ষা। শিক্ষক হিসেবে রয়েছে গ্রামের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া স্কুলের শিক্ষক আশিষ বিশ্বাস ও শিমুল দেবনাথ জানান, গ্রামের ছোট-বড় সবধরনের ছেলে-মেয়েরা পাঠ্য বই থেকে সরে গিয়ে নানান কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কোনো প্রকার পড়াশুনা করছে না।

যার কারণে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেছি। আর এক শিক্ষক পার্থ জানান, আমারা ছোট খাটো কিছু চাকরি করতাম কম-বেশি সবাই। করোনার কারণে এখন অধিকাংশই বাড়িতে বসে আছি। করোনার প্রকোপ শুরুর দিকে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্প্রে করেছি। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে দু’তিন দফায় ত্রাণ দিয়েছি। আর ভিটামিন সি-এর কথা চিন্তা করে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে লাগিয়েছি মাল্টার চারা। এখন কাজ করছি স্কুল নিয়ে। যতদিন সরকার স্কুল কলেজ না ওপেন করবে ততদিন বিনা খরচে আমাদের স্কুলে লেখাপড়া চলবে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাঘারপাড়ার অবহেলিত বলরামপুর গ্রামের এ উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছে রোটার‌্যক্ট ক্লাব ও বিন্দু ফাউন্ডেশন। সংগঠন দুটি প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্যে খাতা, কলম, করোনা প্রতিরোধে মাস্ক, শিক্ষকদের জন্যে মার্কার পেন, খেলার জন্যে ফুটবল ও মেয়েদের দড়িলাফ খেলার সামগ্রী দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল শিক্ষার্থীদের হাতে চকলেটও তুলে দেন।

এসব সামগ্রী প্রদানের সময় অংশ নেন পাবলিক রিলেশন কমিটির চেয়ারম্যান পিপি উজ্জ্বল বিশ্বাস, জোনাল রিপ্রেজেনটেটিভ রোটার‌্যক্টর আবু হুরায়রা, রায়হান, গ্রেটার যশোরের সভাপতি শাওন ফরিদ সভাপতি, যশোর ক্লাবের সহসভাপতি ডাক্তার মতিউর রহমান সোহাগ, সভাপতি রুকুনুজামান, ফয়সাল হাসান, ইবনুল হোসেন, সোহাগ হোসেন, যশোর ইস্ট-এর সভাপতি নিটুট ভদ্র, রিজিওন-৭-এর রিজিওনাল রিপ্রেজেনটেটিভ সুজন মাহমুদ, জোন-৩-বি-এর জোনাল রিপ্রেজেনেন্টটিভ আল জোবায়ের রনি, বিন্দু ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র নাহিদ হাসান, অতিথি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি স্বপন বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস, কিশোর বিশ্বাস, তরুন সমাজসেবক শাহীন রেজা। আমার স্কুলের শিক্ষক কেয়া বিশ্বাস, আশিষ বিশ্বাস, শিমুল দেবনাথ, বিজয় বিশ্বাস, পার্থ প্রতীম বিশ্বাস, সুমি রানী, প্রিয়াংকা রানী সুর। সার্বিক সহযোগিতায় বিন্দু ফাউন্ডেশন ও রোটার‌্যাক্টর ডিস্ট্রিক-৩২৮১ বাংলাদেশ জোন-৩-বি।

অতিথি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পলাশ বিশ্বাস ও স্বপন বিশ্বাস বলেন, সকল শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্কুলে যাওয়া-আশা করছে। তাছাড়া যেহেতু সবাই একই গ্রামের এজন্য খুব বেশি ঝুঁকি মনে করেন না বলেও দাবি করেন তারা। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণের জন্য ধন্যবাদ জানান বিন্দু ফাউন্ডেশন ও রোটার‌্যাক্ট ডিস্ট্রিক-৩২৮১ বাংলাদেশ জোন-৩-বি নামে প্রতিষ্ঠান দুটিকে। পাশাপাশি এ উদ্যোগে যদি আরও কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ান তাহলে স্কুলের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও দাবি তাদের।