কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

খুলনা ব্যুরো ১২:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২০

print
কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

আবারও বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয় মানুষের দেওয়া রিং বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ভেঙে যাচ্ছে বাঁধগুলো। উত্তর বেদকাশী ও কয়রা সদর ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে পানি ওঠায় দুর্ভোগের সীমা নেই এ এলাকার মানুষের। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা পরিদর্শনেও আসেননি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে কয়রা উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। আড়াই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটির তৈরি ঘরগুলো ধসে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ভূমিকা না থাকায় দুর্ভোগে পড়া মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে পানি আটকায়। গেল দুই সপ্তাহ ধরে ভাঙনের সব কয়টি স্থান মেরামত করে স্থানীয় লোকজন। তবে বুধবার দিন রাতে সেসব বাঁধ আবারও ভেঙে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড সেটি না করায় বারবার ভেঙে যাচ্ছে। উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাজীপাড়া এবং কয়রা সদরের ঘাটাখালী এলাকার বাঁধ ভেঙে আবারও প্লাবিত হয়েছে। বুধবার রাত থেকে পানি ঢুকে সব এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে।

কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষদের সাথে নিয়ে আমরা বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দিয়েছিলাম। এরপর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল। এ কাজটি করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের আমরা অনুরোধ করেছিলাম। তবে তারা সেটি না করায় আবারও ভেঙে পানি ঢুকছে এলাকায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষকে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তিনি বলেন, একদিকে মানুষের খাবারের জন্য কষ্ট, অন্যদিকে পানির কারণে ভোগান্তির শেষ নেই। বিনা পারিশ্রমিকে গরিব মানুষ আর কত দিন কাজ করতে পারে!

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উত্তর বেদকাশির গাজীপাড়া, দীঘির পাড়, বড় বাড়ি, কয়রার গোবরা, ঘাটাখালী, ২নং কয়রাসহ বেশ কিছু গ্রামের মানুষ রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বাড়ি ঘর সব পানিতে তলিয়ে গেছে।

প্রথম দফায় বাঁধ দেওয়ার পর মানুষ মনে করেছিল লবণপানি আর ঢুকবে না লোকালয়ে। তবে সে আশা টেকেনি।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, নতুন করে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা সদরে এখনো পানি থই থই করছে। একদিকে খাবার সংকট, অন্যদিকে লবণলপানির চাপ। মানুষ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। মানুষ বাঁধ দিয়ে স্বস্তিতে ছিল। তবে জোয়ারে পানির চাপে সব বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট বিফলে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো রকমের তদারকি করছে না। অন্যথায় এ বাঁধ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো। তিনি অবিলম্বে বাঁধ মেরামতে পাউবো কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন।