চোরা শিকারির হরিণ নিধন

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চোরা শিকারির হরিণ নিধন

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

print
চোরা শিকারির হরিণ নিধন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে সম্প্রতি সুন্দরবনে বাঘ ও হরিণের সংখ্যা বেড়েছে। সুন্দরী গাছ পাচারও কমেছিল। কিন্তু চলমান করোনাভাইরাসের সুযোগ নিয়ে চোরা শিকারিরা হরিণ শিকার এবং গাছ পাচার করছে। এ চক্র হরিণের মাংস ও চামড়া বিক্রি এবং জীবিত হরিণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। এছাড়া বিষ দিয়ে মাছ শিকারের উৎসব চলছে বনের অভ্যন্তরের নদী-খালে। তবে এসব অপতৎপরতা বাড়ায় রেড এলার্ট জারি করে টহল জোরদার করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন বিভাগ জানায়, বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে মাত্র ৩৬ দিনের ব্যবধানে পুলিশ ও বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে ২৪টি জীবিত হরিণ, ৭৯ কেজি হরিণের মাংস, ৬ হাজার ৬০০ ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার করেছে। এ সময়ে ৭ জন চোরা শিকারিকে আটকসহ তাদের শিকার কাজে ব্যবহৃত ৪টি ট্রলার ও দুইটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। 

সুন্দরন সংলগ্ন এলাকার মৎসজীবী ও বনজীবীরা জানান, চোরা শিকারির সংঘবদ্ধ চক্র সুন্দরবনের গভীর অরণ্যের হরিণের আবাসস্থল এলাকায় অবস্থান নেয়। কখনো ট্রলারে, কখনো নৌকায় আবার কখনো বনের গাছে মাচা বেঁধে হরিণের গতিবিধি লক্ষ্য করে তারা। যে অঞ্চলে কেওড়া গাছ বেশি জন্মে, হরিণের আনাগোনা সেখানে সবচেয়ে বেশি থাকে। ভোরে অথবা পড়ন্ত বিকেলে কিংবা চাঁদনী রাতে হরিণ চরাঞ্চলে ঘাস খায়।

শিকারিরা হরিণের এই স্বভাব বুঝে ঝুঁকি নিয়ে রাতের আঁধারে গহীন অরণ্যে নামে। সুযোগ বুঝে তারা গুলি করে কিংবা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। হরিণ শিকারের পর গোপন আস্তানায় বসে মাংস তৈরি করা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এক কেজি মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা, দাকোপ, রায়েন্দা, তাফালবাড়িয়া, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়াসহ বনের আশপাশ এলাকায় এ মাংস বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া শিকারিরা কষানো বা বরফ দেওয়া মাংস বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে থাকে। আবার কার্যসিদ্ধির জন্য টিপস হিসেবেও হরিণের মাংস বা চামড়া ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার ড্রইংরুমের শোভাবর্ধন করেন হরিণের চামড়া দিয়ে। চোরা পথে হরিণ শিকার এবং মাংস, চামড়া ও জীবন্ত হরিণ পাচারের নেপথ্যে যে সব রাঘব বোয়াল জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে বিরল প্রজাতির এই হরিণ অস্তিত্ব¡ সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে সুন্দরবন থেকে বেশ কিছু হরিণ ও ফাঁদজাল, মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বন আইনে মামলাও করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিকারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনে রেড এলার্ট জারি করে বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও বনরক্ষীরা বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।