এখানে বসন্ত এসেছে ফুলে ফুলে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

এখানে বসন্ত এসেছে ফুলে ফুলে

ইবি প্রতিনিধি ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

print
এখানে বসন্ত এসেছে ফুলে ফুলে

বসন্তের শেষ মাস। চারদিকে সবুজে আচ্ছাদিত। ক্যাম্পাসের প্রতিটি গাছ নতুন পাতায় ভরে গেছে। কোকিল এখন আর তেমন দেখা না গেলেও অন্য পাখিরা গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে সাথে মিষ্টি সুরে গান তো আছেই। এ সময়ে বাহারি ফুলের শোভা বেড়েছে বহুগুণে। এমনটি দেখা গেছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)।

১৭৫ একরের এই সবুজ ক্যাম্পাসে এখন শোভা পাচ্ছে ফুল। রাস্তার দু’ধারে ফুঁটে থাকা নানা রঙ বেরঙের ফুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বামে তাকালে মনে হতে পারে যে, ফুলের বাগানে ঢুকে পড়েছেন। কিন্তু না। এটি কোনো ফুলের বাগান নয়। ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ও ইবির সাবেক শিক্ষার্থী ফিরোজুর রহমান ফুল সম্পর্কে তার অনুভুতি জানিয়ে বলেছিলেন, ১৭৫ একরের ক্যাম্পাস আমার একটি ভালোবাসার জায়গা। ছুটি পেলে প্রায়ই আমি পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসি। আমাদের সময়ে ক্যাম্পাস এতটা সুসজ্জিত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।’

ফুল নাকি ভালোবাসার প্রতীক। ফুল ভালোবাসে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ফুলকে ভালোবেসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন যায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে ফুলের বাগান। যা ১৭৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরো হাজার গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্যাম্পাস সেজেছে রঙিন সাজে। ক্যাম্পাসের প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, চিকিৎসাকেন্দ্র, মফিজ লেক, বিভিন্ন অনুষদ ভবন, বিভিন্ন আবাসিক হল ছেয়ে গেছে ফুলে ফুলে। ফুটেছে নানা প্রজাতির ফুল। এদের মধ্যে- হরেক প্রজাতির গাঁদা, ডালিয়া, গোলাপ, হাসনাহেনা, কসমস, সূর্যমুখী, জবা, জুঁই, চামেলি, টগর, বেলি উল্লেখযোগ্য।

প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। ফুল ছাড়াও ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়ায় ক্যাম্পাস সেজেছে ভিন্ন সাজে। গাছে গাছে বিভিন্ন পাখির কিচিরমিচির ডাক। ক্যাম্পাসের মফিজ লেকে অতিথি পাখির আনাগোনা বিমোহিত করে দর্শনার্থীদের। নয়নাভিরাম এই মনমুগ্ধকর দৃশ্য তাকিয়ে থাকার মতো। বিকেল হলেই যেন মেলা বসে ক্যাম্পাসে। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেন হারিয়ে যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রেমিক-প্রেমিকারা। এছড়াও দেখা যায় ছুটির দিনে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের আনাগোনা।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল নিজ উদ্যোগে প্রকৌশল অফিসের সামনে গড়ে তুলেছে ফুলের বাগান। যা ইতোমধ্যে অনেকের নজর কেড়েছে। পেয়েছেন বিভিন্ন মহলের প্রশংসা।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রকৌশল অফিসের দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাস আরো সুন্দর করে সাজানোর ভাবনা মাথায় আসে। মূলত শখের বশেই এই বাগান তৈরি করা। নিজ উদ্যোগে প্রকৌশল অফিসের সামনে ছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৪২ প্রজাতির ফুলগাছ রোপণ করেছি।’