মণিরামপুরে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

মণিরামপুরে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ৮:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২০

print
মণিরামপুরে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

যশোরের মণিরামপুরে হঠাৎ করেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বিশেষ করে চাল, আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। কোন কারণ ছাড়াই কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ। ফলে ভোগান্তি বেড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের। গত এক সপ্তাহে চালের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ৪০০-৫০০ টাকা।

গতকাল রোববার সরেজমিন মণিরামপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৮ টাকা। চেকন ব্রি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৬-৩৭ টাকা এবং মিনিকেট চাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা, যা আগে ছিল ৪০-৪২ টাকা। দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা।

রসুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে। আর আলুতে কেজিপ্রতি চার টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকা। একইসঙ্গে মুদি দোকানিদের প্রতিটি পণ্য আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মণিরামপুর চাল বাজারের খুচরা বিক্রেতা মফিজুর রহমান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় চাল সরবরাহের সংকট রয়েছে। বড় মোকামগুলোতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল মজুত করা হচ্ছে। করোনার জন্য ইন্ডিয়ান এলসি চাল বাজারে আসছে না। এছাড়া হঠাৎ করে লোকজন বেশি পরিমাণ চাল কিনছেন। এসব কারণে চালের দাম বেড়েছে।

কাঁচা বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আকতার হোসেন বলেন, গত শনিবারের তুলনায় আজকে (রোববার) রসুন ও পেঁয়াজের দাম কেজিতে দশ টাকা কমেছে। আজ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, ৪০-৪৫ টাকা কেজি এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯০ টাকা।

বাজারের বড় মুদি ব্যবসায়ী প্রতাপকু-ু বলেন, করোনার জন্য চাহিদার তুলনায় বাজারে দ্রব্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য টানানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, তালিকা প্রস্তুত করেছি। আজকে টানিয়ে দেব।

মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, গত শনিবার বাজার পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি।

কোনভাবে যেন জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে সেজন্য তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতি দোকানিকে দ্রব্যমূল্যের তালিকা টানিয়ে নিত্য আপডেট করতে বলা হয়েছে।