দারিদ্র্য জয়ে এশার গল্প

ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

দারিদ্র্য জয়ে এশার গল্প

বি এম ফারুক, যশোর ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

print
দারিদ্র্য জয়ে এশার গল্প

প্রতিভা থাকলে দাবিয়ে রাখা যায় না- এই চিরায়ত বাণী যেন চলমান বাস্তবতায় মৃয়মান হতে চলেছে। তবে দমে যাওয়া যাদের চরিত্রে নেই, তাদের আটকায় কে? তাই নানা বাধা আর দায়িত্বশীলদের অসহযোগিতাকে জয় করে যশোরের মেয়ে সুরাইয়া শিকদার এশা পৌঁছে গেছে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে। মেয়েকে এই সাফল্য এনে দিতে ছায়ার মতো তার পাশে ছিলেন বাবা খবির শিকদার। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) এশার ভর্তির সুযোগ পাওয়ার গল্প। এই সুযোগ পেতে তাকে ভর্তিযুদ্ধে তিন তিনটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। আর এর প্রস্তুতি নিতে বার বার পড়তে হয়েছে বাধার মুখে।

এশার বাবা খবির শিকদার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। থাকেন শহরের রেলরোডের ফুড গোডাউন এলাকায়। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার।

খবির শিকদার বলেন, এশার বড় বোন সুমাইয়া শিকদার ইলা ক্রিকেট, ফুটবল, জুডো খেলে। গত বছর মার্চে বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণের জন্য সারাদেশে বাছাই পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষায় আমি আমার বড় মেয়েকে নিয়ে যাই। সঙ্গে ওর মা ও আমার ছোট মেয়ে এশাও ছিল। এশা বাদাম খাওয়ার কথা বলে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফরম সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে যায়। এ দেখে আমি তার জন্যও একটি ফরম সংগ্রহ করি। সেই পরীক্ষায় ওরা দুই বোনই টিকে যায়। খবির শিকদার বলেন, বড় মেয়েটার পছন্দ জুডো আর ছোটটার জিমন্যাস্টিকস্।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এশা মোবাইলে শরীর কসরত দেখে আর নিজে নিজে প্রাকটিস করে। পরে এশা ঢাকা বিকেএসপিতে এক মাসের প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়। ওই প্রশিক্ষণ শেষে যশোরে এসে বাঁধে বিপত্তি। প্রাকটিসের জায়গা নেই। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার জিমনেসিয়াম আছে। কিন্তু সেখানে প্র্যাকটিসের পরিবেশ নেই। এজন্য আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পার্কে, রাস্তার পাশে, স্কুল মাঠে যেখানে জায়গা পেয়েছি সেখানে প্র্যাকটিস করিয়েছি।

গত বছর জুলাই মাসে ফের এশাকে ঢাকায় ডাকা হয়। সেখানে দুই মাসের প্রশিক্ষণ পায়। এই প্র্যাকটিস আর প্রশিক্ষণের মধ্যেও সে যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যায়। এরই মধ্যে গত নভেম্বরে বিকেএসপিতে ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় খুলনা আঞ্চলিক শাখায়। এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার মা তাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের সেই পরীক্ষায় আমরা সপরিবারে খুলনায় যাই। মেয়ে পরীক্ষা শেষেই আমাকে জানায়, একজন পাস করলে আমিই করবো।

এশার মা ফিরোজা খাতুন সুমি বলেন, আমাদের নিম্নবিত্ত পরিবার। স্বাভাবিকভাবে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে দুই মেয়ের লেখাপাড়া ও খেলার প্র্যাকটিসের সরঞ্জাম, পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া খুবই ব্যয়বহুল। মেয়েদের বাবা এসব কথা ভাবে না। শুধু ছোটে আর ছোটে। ধার দেনা করে। এশার স্বপ্ন বিশ্ব অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। সে মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করবেই।