বালুমহালের কোটি টাকা রাজস্ব গায়েব

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

বালুমহালের কোটি টাকা রাজস্ব গায়েব

দেবাশীষ দত্ত, কুষ্টিয়া ২:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

print
বালুমহালের কোটি টাকা রাজস্ব গায়েব

নির্মাণ কাজের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর বালুর সুখ্যাতি দীর্ঘদিনের। জেলার ২১টি বালুমহাল থেকে এসব বালি উত্তোলন ও সরবরাহ থেকে প্রতিদিন অন্তত পাঁচলাখ ঘনফিট মোটা বালু যাচ্ছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে। যার আর্থিক মূল্য ন্যূনতম দেড় থেকে দুই কোটি টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা, ব্যর্থতা অথবা যোগসাজসে সৃষ্ট এই আইনগত জটিলতা বিদ্যমান থাকায় দীর্ঘ ১০বছর ধরে ইজারাবিহীন ২১টি বালুমহাল থেকে সরকার অন্তত দুইশ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে বলে সত্যতা নিশ্চিত করেন জেলার রাজস্ব বিভাগ।

মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া বালুঘাটের ব্যবসায়ী ওহিদুল কবিরাজ বলেন, পশ্চিম বাহিরচর ও রানাখড়িয়া-তালবাড়িয়া বালু ঘাটে পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন নির্মাণ কাজের সর্বোচ্চ মানসম্মত প্রায় পাঁচ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন ও সরবরাহ হচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পরিশ্চমাঞ্চলের ২০ জেলায়। যার আর্থিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

ভলগেট নৌকা মালিক সাহাবুল ইসলামের অভিযোগ, সরকারিভাবে বালুমহাল ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে জোরপূর্বক প্রতিদিন কেবলমাত্র বাহিরচর বারোমাইল ও ঘোড়ামারা তালবাড়িয়া বালুঘাটের অন্তত পাঁচশ নৌকা থেকে গড়ে ৫০ লাখ টাকা বিনা রশিদে চাঁদা আদায় করছেন ঘাট মালিকারা।

ঘোড়ামারা-তালবাড়িয়া-রানাখড়িয়া বালুঘাট মালিক ইউপি চেয়ারম্যান হান্নান মণ্ডল বলেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন থেকে চার কোটি টাকা দিয়ে আমি যুগিয়া-তালবাড়িয়া ধুলটমহল ইজারা নিয়ে বালুমহালের টোল আদায় করছি। এ সময় ধুলট মহালের ইজারাদার বালুমহালের টোল নিচ্ছেন কীভাবে? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের মুখে তিনি অসংলগ্ন কথা বলেন এবং বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রাসঙ্গিক বিধি সম্মত প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন।

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান জানান, জেলার ২১টি বালুমহালে আইনগত জটিলতা বিদ্যমান থাকায় দীর্ঘ ১০ বছরে দেড় থেকে দুইশ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।