ডায়াগনস্টিকের নামে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ডায়াগনস্টিকের নামে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্য

খুলনা ব্যুরো ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

print
ডায়াগনস্টিকের নামে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্য

খুলনায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। অনেকটা রাতারাতিই গড়ে উঠছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথিত এসব প্রতিষ্ঠান। গত এক বছরে খুলনায় অন্তত ২০টি নতুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু হয়েছে। যার বেশির ভাগেরই নেই ন্যূনতম মান। নিম্নমানের রি-এজেন্ট, প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব আর দালাল নির্ভর এসব প্রতিষ্ঠান রোগীদের গলা কাটতে সদা প্রস্তুত রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশেপাশে ৫শ’ গজের মধ্যে কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিধি-নিষেধ থাকলেও এখানে অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এই ২০ প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক দালাল রোগী বেশে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের সর্বশান্ত করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি আর পুলিশের ভয়ে সকালে গিয়েই এসব দালাল একটি টিকিট কেটে পকেটে রেখে নিজেকে বৈধ রোগী সাজিয়ে রোগী বানিয়ে আনছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাইসেন্স ফি ও প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্র নিয়ে আপত্তি থাকায় অসম্পূর্ণ অবস্থায় অনলাইনে আবেদন করে ব্যবসা করছে নগরীর অনেক বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল। দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার কারণে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে। এরই মাঝে প্রতিনিয়ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার তৈরি হচ্ছে নগরীর মোড়ে মোড়ে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের হালনাগাদ তালিকা থেকে জানা যায়, নগরীতে লাইসেন্সকৃত বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৮০টি। তবে অনুসন্ধানে ২৫০ এর বেশি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের খোঁজ পাওয়া গেছে। অথচ খুলনায় সর্বমোট বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঠিক সংখ্যা কত এর কোন হিসাব নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রাশিদা খানম বলেছেন, অন্যায় ও অবৈধভাবে কেউ হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন লাইসেন্স সংক্রান্ত সকল কাজ অনলাইনে সরাসরি ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। খুব শিগগিরই যে সকল প্রতিষ্ঠান এখনও আবেদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।