নব উদ্যমে জীবন শুরু আয়েশা ফেরদৌসীর

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ | ১১ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

নব উদ্যমে জীবন শুরু আয়েশা ফেরদৌসীর

কুষ্টিয়ায় জয়িতা সম্মাননা

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
🕐 ১:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

নব উদ্যমে জীবন শুরু আয়েশা ফেরদৌসীর

যুদ্ধটা শুরু ২০০১ সাল থেকে। ছাত্র জীবনে পরিবারের অমতে নিজের পছন্দের বিয়ে তারপর ফলাফল স্বরূপ বাবা-মা হতে বিতাড়িত। অনেক হাত পা ধরে যদিও শ্বশুরালয়ে আশ্রয় মিললো কিন্তু শর্ত হলো তাদের ছেলেকে পড়ালেখার খরচ মেয়ের বাবাকে চালানো লাগবে। মেয়ের বাবা অনিচ্ছা থাকলেও মেনে নিলেন। সাথে তাকেও পড়ালেখা করার জন্য জোর চালালেন। মেয়েটি তখন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মেয়েটি চিন্তা করলো আমার খরচসহ স্বামীর খরচ আবার আমার ছোট দুই ভাই-বোনের খরচ বাবার জন্য অনেক কষ্ট সাধ্য।

তাই অবশেষে মেয়েটি তার স্বামীকে তার ভবিষ্যৎ ভেবে নিজের পড়া বন্ধ রেখে তার পড়ার খরচের ব্যবস্থা করলো। যথারীতি মেয়েটির স্বামী ডিপ্লোমা কমপ্লিট করে ইন্টার্নি শেষ করে চাকরিতে ঢুকলো। ২০০৬ সালে মেয়েটির ঘর আলো করে এক ফুটফুটে ছেলে জন্ম নিলো। ছেলের জন্মের আগ থেকে শিশুর চার মাস বয়স পর্যন্ত সকল দায়িত্ব নিল মেয়েটির বাবা। এরপর হঠাৎ মেয়েটির স্বামী ছেলেসহ নিয়ে গেল তার কর্মস্থলে। ছোট্ট ছেলেটির বয়স যখন দুই বছর হঠাৎ মেয়েটির স্বামী বিএসসি পড়ার কথা বলে তাদেরকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিল। তারপর ছয় মাস পরে ২০০৮ সালে হঠাৎ স্বামী পাঠালো ডিভোর্স লেটার। তখন মেয়েটি পাথর প্রায়।

পাথর জীবন থেকে বাস্তবে ফিরতে মেয়েটির কিছু সময় লেগেছিল। এই সময় মেয়েটির বাবা দিনরাত তার হাত ধরে সাহস, সান্তনা দিতেন আর শক্তি যোগাতেন।

তারপর মেয়েটি ২০০৯ সালে একটি রেজিস্ট্রার স্কুলে চাকরি শুরু করেন। যেখানে তাকে কোন পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না। দীর্ঘ ২/৩ বছর টিউশনি, সেলাই মেশিন ও বুটিকস এর কাজ করে মেয়েটি তার সংসার চালাতো। পাশাপাশি নিজেও উন্মুক্ত কলেজে ভর্তি হয়ে এইচএসসি পড়ার খরচ চালায়। মেয়েটি যে স্কুলে চাকরি করতো সেই স্কুলটি ২০১২ সালের মাঝামাঝিতে এমপিও আর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। এর মধ্যেই মেয়েটি বিএসএস ও বিএড শেষ করে।

তারপরে আর মেয়েটিকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এতক্ষণ ধরে যে মেয়েটির কথা বললাম সেই মেয়েটি প্রাগপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের মেয়ে মোছা. আয়েশা ফেরদৌসী (৩৬)। তিনি বর্তমানে দৌলতপুরের ৯ নং মথুরাপুর (পশ্চিম) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। নির্যাতনে বীভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা নারী হিসেবে পেয়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জয়িতা সম্মাননা।

গত সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা ও সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবদান রাখায় তাকে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করা হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী ও দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আরিফুর রহমান।

 
Electronic Paper