৬৭ পেরিয়ে স্কুলে রুসিয়া

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

৬৭ পেরিয়ে স্কুলে রুসিয়া

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ৫:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

print
৬৭ পেরিয়ে স্কুলে রুসিয়া

রুসিয়া বেগমের বয়স ৬৭ বছর। পড়েন চতুর্থ শ্রেণিতে। নিয়মিত ক্লাস করেন তিনি। ক্লাসে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়ালেখা নিয়ে প্রতিযোগিতাও আছে তার। ক্লাস পরীক্ষায় কখনও এগিয়ে যাচ্ছেন, আবার কখনও একটু পিছিয়ে পড়ছেন।

গত বছর তৃতীয় শ্রেণির পরীক্ষায় রুসিয়াকে টপকে তারই সহপাঠী ১০ বছর বয়সের জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম হয়েছে। রুসিয়া হয়েছেন দ্বিতীয়। এর আগের বছর রুসিয়া ছিলেন প্রথম।

রুসিয়া অবশ্য দাবি করেন, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় তিনি ভালো ফল করবেন। সে লক্ষ্য নিয়ে পড়ালেখা করে যাচ্ছেন। ছোট বেলায় গ্রামে স্কুল না থাকায় পড়ালেখা করতে পারেননি। কোনো কিছুই পড়তে পারতেন না তিনি। ধর্মীয় পড়ালেখাও সম্ভব হতো না তার। তাই এ বয়সে শিশুকলী বিদ্যানিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রুসিয়া বেগম ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা সদরের আবুল হোসেন মালিতার স্ত্রী। তার এক ছেলে আর এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে গোলাম মোস্তফা বিয়ে করেছেন। তার দুই মেয়ে ফারহানা মোস্তফা দশম শ্রেণীর ছাত্রী আর ফারজানা পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে।

রুসিয়া বেগম জানান, কুষ্টিয়ার বৃত্তিপাড়া এলাকার ভগবাননগর গ্রামের তাহাজ উদ্দিনের মেয়ে তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। সেই সময়ে মেয়েরা বেশি দূরে গিয়ে পড়ালেখা করতো না। পরিবার থেকে দূরে পাঠাত না। তাদের গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না, যে কারণে তিনিও স্কুলে যেতে পারেননি। বিয়ের পর সংসার করেছেন। স্বামী একটি চাকরি করেন।

তাদের সংসারে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতিন সবই আছে। স্বামীও কিছুটা পড়ালেখা জানেন। শুধু নেই তার মধ্যে কোনো বিদ্যা। নিজে কোনো চিঠি পড়তে পারেন না। এমনকি কোরআন শরিফ পড়েও তার অর্থ বোঝেন না। যে কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নেন পড়ালেখা শিখবেন।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, রুসিয়া তার বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী। অন্যদের মতো তিনিও ক্লাস করেন। বিদ্যালয় থেকে দেওয়া পড়া বাড়ি থেকে করে আসেন। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জানায়, সহপাঠি হলেও বয়সের কারণে তারা রুসিয়াকে দাদি বলে ডাকেন।

এবার সে দাদিকে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছে। আরেক ছাত্রী রিমি রহমান জানায়, দাদি তাদের অনেক ভালোবাসেন। তারাও দাদিকে ভালোবাসে।