খুলনায় পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খুলনায় পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

খুলনা ব্যুরো ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

print
খুলনায় পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

বুলবুলের প্রভাবে খুলনায় বৃষ্টি হয়েছে দুইদিন পূর্বে। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে অনেক এলাকায়। অথচ এখনো পানিবন্দী হয়ে আছে নগরীর খালিশপুর বাস্তহারা কলোনীর প্রায় ১০ হাজার মানুষ। গত রোববার থেকে ওই এলাকায় হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি নেমেছে মাত্র ৩ ইঞ্চি। সম্পূর্ণ পানি নামতে আরও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বৃষ্টি হলেই এমন জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন কলোনীর বাসিন্দারা।

এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার বসবাসকারী মানুষের জীবন। রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ঘরের ভিতরে পানিতে থৈ থৈ করছে। বেশ কয়েকটি রাস্তায় এখনও হাটু সমান পানি রয়েছে। শুধু মানুষই নয়, এখানকার গবাদী পশু-পাখিও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির ফলে এ দুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে অসংখ্য খানাখন্দের কারণে মুজগুন্নী মহাসড়কের বেহাল দশা। বিশেষ করে মুজগুন্নী পাকের সামনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বয়রা মোড় পর্যন্ত রয়েছে অসংখ্য গর্ত। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, বাস্তহারা এলাকাটি এমনিতে নিচু। তারপর বাস্তহারা খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। আবার খালটি ছাতির পার্কের পাশ দিয়ে বাইপাস সড়কে গিয়ে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অবৈধ দখলদারদের কারণে খাল দিয়ে পানি নামতে পারছে না। মূলত খাল দিয়ে পানি নামতে না পারায় বৃষ্টির পানি রাস্তা-ঘাটসহ মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে।

বাস্তহারা এলাকার ব্যবসায়ী হাসান খান জানান, বাস্তহারা মূল সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয় না। সড়কটি উঁচু করলে বাইরের পানি ভেতরে প্রবেশ করতে পারতো না। কিন্তু করবো, করছি বলেও সড়কটি উঁচু করা হচ্ছে না। এভাবে দীর্ঘদিন থাকতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি প্রবেশ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ নেতা খান জাকির জানান, ভারী বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, এমনকি শোবার ঘরেও পানি ঢুকে যায়। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে বাস্তহারা খালটি পুনঃখনন করে সচল করা এবং রাস্তা উঁচু করা জরুরি। কিন্তু বার বার বলা সত্ত্বেও এদিকে কারও নজর নেই।