গড়াইয়ের ভাঙনে নিঃস্ব অর্ধশত পরিবার

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড়াইয়ের ভাঙনে নিঃস্ব অর্ধশত পরিবার

জিয়াউর রহমান, শ্রীপুর (মাগুরা) ৬:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০১৯

print
গড়াইয়ের ভাঙনে নিঃস্ব অর্ধশত পরিবার

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়ন হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম দোরাননগর প্রমত্তা গড়াই নদীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। ইতোমধ্যে এই গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে সবকিছু হারিয়ে অন্যত্র সরে গিয়ে পরের জায়গায় অথবা সরকারি জায়গায় মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছে। এ ভাঙনের কবলে প্রায় আরও অর্ধশত পরিবার মন্দির উপাসনালয় চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে।

এ বিপর্যয় থেকে বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা ও তদবিরের পর মাগুরার সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের প্রচেষ্টায় মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দকৃত বেশি ভাঙন কবলিত এলাকা দোরানরগর গ্রামে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ মি এলাকায় সাত হাজার পাঁচশ জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হয়।

বর্তমানে ওই এলাকায় বর্ষার পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জিও ব্যাগগুলো নদীর মধ্যে নেমে যাচ্ছে। এতে ওই এলাকায় আরও ভয়াবহ পরিণতির সম্ভবনা রয়েছে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলো, রামজীবন মন্ডল, প্রমনাথ মন্ডল, খিরত মন্ডল, সন্যাসি মন্ডল, প্রভাত বিশ্বাস, তারাপদ বালা, শৈলেন বালা, সুখচাঁদ মন্ডল, হিমাংশ মন্ডল, পরিতোষ সরকার, প্রদিপ বিশ্বাস, ভুপেন বালা, কালিপদ বিশ্বাস, অনুপ বিশ্বাস, তারাপদ বিশ্বাস, নিশিকান্ত বিশ্বাস, সুর্যকান্ত বিশ্বাস, জিতেন্দ্র বিশ্বাস ও আনন্দ বিশ্বাস।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূপেন বালার জানান, আমার কোন নিজেস্ব জমি নাই আজ থেকে ১০ বছর আগে ভাঙন কবলিত এলাকায় আমার বড়ি ছিল। নদীতে আমার বাড়ি ভেঙে যাওয়ার পর সরকারি জায়গায় মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছি।

ওই গ্রামের সাবেক মেম্বার রমেস চন্দ্র ঘোষ জানান, গ্রামটি নদী ভাঙন এলাকা। অনেক চেষ্টার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তা দিয়ে জিও ব্যগের কাজ শুরু করে। নদীতে ব্যাগগুলো ফেলানোর সময় এলাকাবাসী ঠিকাদারের লোকজনদের ভালভাবে দেওয়ার কথা বললেও তারা সেভাবে না দিয়ে ইচ্ছা মতো কাজকরে চলে যায়। ফলে জিও ব্যাগ গুলো পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর মধ্যে নেমে যাচ্ছে।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন জানান, বর্ষার পানি নদীতে নেমে যাওয়ার পর জিও ব্যাগগুলো নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ওই এলাকায় পূর্বের ন্যায় ক্ষতির সম্ভবনা কম থাকবে।