মোংলা বন্দরে স্বামী-স্ত্রীর অবৈধ নিয়োগ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

মোংলা বন্দরে স্বামী-স্ত্রীর অবৈধ নিয়োগ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
মোংলা বন্দরে স্বামী-স্ত্রীর অবৈধ নিয়োগ

ইবনে হাসান এবং তার স্ত্রী কানিজ হাসান। এই দম্পত্তি চাকরি করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে। ইবনে হাসান বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের রাজস্ব শাখার সিনিয়র আউটডোর এ্যাসিন্টেট ও তার স্ত্রী কানিজ আছেন প্রশাসন বিভাগে। ২০১৩ সালে তারা বন্দরের এই দুই বিভাগে চাকরি নেন। তবে তাদের দুজনরই নিয়োগ অবৈধ বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যারা তাদের নিয়োগ পাইয়ে দেন তাদের ভাষ্য, নিয়োগের ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের বিষয়টি মিথ্যা। অবৈধ নিযোগের বিষয়ে বন্দরের নিয়োগ কমিটি দায়ী। ওই সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন হাওলাদার জাকির হোসেন, সচিব হেলাল উদ্দিন ভূইয়া এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের একজন প্রতিনিধি নিয়োগ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) সভাপতি সাইজউদ্দিন মিঞা বলেন, ইবনে হাসানের মত অনেকেরই অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। এর জন্য নিয়োগ কমিটি দায়ী, আমাদের কোন দায় নেই।

বন্দরের একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ওই দু’জন চাকরিতে নিয়োগ পেয়ে এরই মধ্যে অবৈধভাবে পদন্নোতিও পেয়েছেন। এনিয়ে বন্দর পাড়ায় বেশ আলোচনা সমালোচনা হলেও কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুপ থাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, হাসান ও কানিজের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তারা বলেন, এই দুজন ২০১৩ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। প্রথমে তারা জেলা কোঠা ঢুকেছে বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে ওই সময় তাদের জেলা কোঠা (গোপালগঞ্জ ও নড়াইল) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখই ছিল না।

অবৈধভাবে তারা নিয়োগ নিয়েছেন। এনিয়ে জানাজানি হলে এই দম্পত্তি চাকরি বাঁচাতে পোষ্য কোঠায় (পিতা মাতার উত্তোরিধিকার) ঢুকেছেন বলে প্রপাগন্ডা চালিয়ে নিজেদের জাহির করেন। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তারা চাকরি করে আসছেন। এরই মধ্যে পেয়েছেন পদন্নোতিও।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি তিনমাস হয়েছে এখানে এসেছি। ভাল বলতে পারবো না। তবে ইবনে হাসান এবং কানিজ হাসানের নিয়োগ অবৈধের প্রমাণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বলে জানান তিনি।

ইবনে হাসানের বিভাগীয় প্রধান পরিচালক (ট্রাফিক) মোস্তফা কামাল বলেন, ইবনে হাসানের ব্যাপারে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) তদন্ত করছেন।