রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আবরার

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আবরার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ১১:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

print
রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আবরার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় নিজ বাসার সামনে আবরারের তৃতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে মরদেহবাহী একটি গাড়িতে করে আবরার ফাহাদের মরদেহ ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় আনা হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের আল-হেরা জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে আবরারের নিজ গ্রাম কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় মরদেহ নেয়া হলে তা নিয়ে বিক্ষোভ করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় আবরারের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

পরে বেলা পৌনে ১১টায় তৃতীয় জানাজা শেষে রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে শায়িত করা হয় বুয়েটের মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে।

এদিকে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি চেয়ে মঙ্গলবার সকালে ফের স্লোগান দিচ্ছেন তার সহপাঠীরা। তারা বুয়েট ক্যাম্পাস ও হল থেকে ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাস’ বন্ধের দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনবিরোধী স্লোগানও দিচ্ছেন তারা।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

দাবিগুলো হলো- খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি; ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্তকৃত খুনিদের সকলের ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কার; দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি; বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তার জবাব সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে দিতে হবে এবং ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তার কারণ বিকেল ৫টার তাকে দিতে হবে; আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।

একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে; রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে এবং মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।