কর্মব্যস্ত জেলেপল্লী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

কর্মব্যস্ত জেলেপল্লী

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

print
কর্মব্যস্ত জেলেপল্লী

শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য এখন জেলে পল্লীগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আর কয়েক দিন পরে জেলেরা পাড়ি জমাবে সাগর উপকূলে। শেষ মূহুর্তে কর্মব্যস্ত জেলে পল্লীর মানুষরা। এতে জেলা পল্লীতে নতুন ট্রলার তৈরি, পুরাতনটা মেরামত, জাল বুনা ও শুকানোর ধূম পড়ে গেছে।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া, হিতামপুর, মাহমুদকাটী, নোয়াকাটি, কপিলমুনি, কাটিপাড়া, রাড়ুলী, শাহাপাড়া, বাঁকাসহ বিভিন্ন গ্রামের জেলে পল্লী থেকে প্রায় ২৫০টি ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উপজেলার বোয়ালিয়া মালোপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা কপোতাক্ষ নদের তীর বোয়ালিয়া ব্রিজের দুই পাশে নতুন ট্রলার তৈরি পাশাপশি পুরাতন ট্রলার মেরামতের কাজ করাছেন। শংকর বিশ্বাস ও রবীন বিশ্বাস জানান, তারা নতুন একটি করে ট্রলার তৈরি করছেন। নতুন ট্রলার তৈরী করতে সর্বমোট খরচ পড়ছে ৫ লাখ টাকা। ৬০ ফুট লম্বা ১৭ ফুট চওড়া একটি ট্রলার তৈরি করতে প্রায় ৫শ সেফটি কাঠ লাগছে। সব কাট দিয়ে ট্রলার তৈরি হয় না।

এলাকায় পাওয়া যায় এমন চম্বল, বাবলা, শিরিস, মেহগনী, খৈই কাঠ দিয়ে তারা ট্রলার তৈরি করছে। সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার ট্রলার মিস্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম, শেখ মিরাজ হোসেন তাদের দুইটি দলে ৪ জন সহকারী মিস্ত্রী নিয়ে নতুন ট্রলার তৈরির কাজ করছেন।

ফরিদপুর জেলার মিস্ত্রী অচিন্ত বিশ্বাস, প্রদীপ বিশ্বাস, রবিউলসহ চারজন মিস্ত্রী দিয়ে নতুন ও পুরাতন ট্রলার মেরামত করা হচ্ছে। ট্রলার তৈরিতে মিস্ত্রীদের থাকা খাওয়া বাদে প্রতিটি নতুন ট্রলার তৈরী বাবদ মজুরী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। নতুন ট্রলার তৈরির পর তাতে রং করতে প্রায় ১২টিন আলকাতরা লাগে।

তারা আরও জানান, মহাজনদের কাছ থেকে ৬-৭ মাসের জন্য চড়া সুদে টাকা ধার নিলেও এক বছরের হিসাবে টাকা দিতে হয়। প্রতি এক লাখ টাকায় মহাজনদের প্রতিমাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা সুদ দিতে হয়। জেলে পাড়ার অজয় বিশ্বাস জানান, মাছ ধরার জন্য সরকারি ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলে তাদের কষ্টার্জিত টাকা ঘরে আসতো। তা না হলে মহাজনের চড়া সুদসহ আসল টাকা পরিশোধের পর অনেক সময় খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ জানান, বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাছ ধরার মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে বন বিভাগ সে মত তারা সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর দিপংকর বিশ্বাস ও বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, দুর্গাপূজার পর উপজেলার সব ট্রলার এক সঙ্গে রওনা দিবে। বাসা বাঁধবেন সুন্দরবনের দুবলার চরে।