দৌলতপুরে রুদ্ররূপে পদ্মা

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

দৌলতপুরে রুদ্ররূপে পদ্মা

পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার

দেবাশীষ দত্ত, কুষ্টিয়া ৭:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

print
দৌলতপুরে রুদ্ররূপে পদ্মা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দিন দিন বেড়েইে চলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে পদ্মার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করেছে। তবে কয়েক দিন আগের তুলনায় পানি বৃদ্ধির পরিমান বর্তমানে কমে গেছে। তাদের ধারণা দু’এক দিনের মধ্যে পানি কমতে শুরু হতে পারে।

এদিকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রায় সাতশ পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির মাষকলাইয়ের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিলম্বিত এ বন্যায় কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে বেশ দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পানি ভারতে থেকে ফারাক্কা হয়ে পদ্মায় পড়ছে। তবে গত দু’দিন পানি বৃদ্ধির পরিমান কিছুটা কমে গেছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ০.১২ সেন্টিমিটার করে পানি পাড়ছে। দুদিন আগে বৃদ্ধির পরিমান ছিল প্রায় .২৪ সিন্টিমিটার।

গত বৃহস্পতিবার সকালে পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩.৮৬ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা হল ১৪.২৫ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ০.৩৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ হচ্ছিল।

সরেজমিন বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিক পদ্মা নদীতে পানি বেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। দু’দিন আগেও যেসব এলাকা শুকনা ছিল। এখন সেখানে পদ্মার পানিতে থৈ থৈ করছে। যেদিনে চোখ পড়ে শুধু পানি আর পানি। চলার রাস্তা ঘাট সব জায়গায় পানি। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের বের হওয়ার কোন উপায় নাই। নৌকাই তাদের চলার একমাত্র অবলম্বন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুর রহমান জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৌলতপুর আসনের সাংসদ অ্যাড. সারওয়ার জাহান বাদশা জানান, পদ্মায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় ৪ ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সেখানে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।