কপোতাক্ষের চরে নির্মিত হচ্ছে গুচ্ছগ্রাম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

কপোতাক্ষের চরে নির্মিত হচ্ছে গুচ্ছগ্রাম

খুলনা ব্যুরো ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

print
কপোতাক্ষের চরে নির্মিত হচ্ছে গুচ্ছগ্রাম

খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামে কপোতাক্ষ নদের চরে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প (গুচ্ছগ্রাম)। যেখানে থাকবে মোট ২২০টি পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রয় ৪০ শতাংশ কাজ ও ৮০টির মত ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে চলমান কাজের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে ওই এলাকার কিছু অংশ। গুচ্ছগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সময় বালু দিয়ে ভরাট স্থানও ভেঙে নদীতে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে আইলার পর থেকে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। এখনও কয়েকশ’ পরিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছেন। তাদের নির্দিষ্ট একটি ঠিকানার জন্য কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামে কপোতাক্ষ নদীর তীরে নির্মাণ হচ্ছে গুচ্ছগ্রাম।

এলাকাবাসীরা জানান, কিছুদিন আগে ওই স্থানের খুব কাছে স্লুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা যায় এবং কিছু অংশ ভেঙে বিলীন হয়। তার পর থেকে স্লুইচ গেটটি বন্ধ রয়েছে। সারা বছর এখানে কম-বেশি নদীভাঙন লেগেই থাকে। নির্মাণ কাজ চলাকালীনই নদীতে ভেঙে যায় এই প্রকল্প এলাকার কিছু অংশ। এমন পরিস্থিতে কতদিন এখানে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা বসবাস করতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর গোবরা ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল গফফর ঢালী বলেন, অল্প বৃষ্টিতে তেমন সমস্যা হবে না। যদি একটানা ভারি বৃষ্টি হয়, আর জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের থেকে বৃদ্ধি পায় তবে গুচ্ছগ্রামে পানি ওঠবে। কাজ চলাকালীন সময় একটি অংশ নদীতে ভেঙে গেছে, সেই স্থান ঠিক করার কাজ চলছে। স্থানীয়দের মতে, নির্মাণ স্থানের ভাঙন ঠেকাতে নদীর পাড়ে ব্লক দিতে হবে। তা না হলে আস্তে আস্তে এলাকাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়ানে গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ একর জমিতে ২২০টি বসতঘর নির্মাণ করা হবে। চলতি বছরের মে মাসে কাজ শুরু হয়েছে, শেষ হবে ডিসেম্বরে। ১২টি আরসিসি পিলারে সঙ্গে টিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে ২ কক্ষ বিশিষ্ট ঘর করা হবে। আর ৪টি পিলার দিয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে করা হবে বাথরুম। এখানে থাকবে খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার ও মসজিদ। পানির প্রয়োজন মিটানোর জন্য ১০টি নলকূপ বসানো হবে। এখানে যারা ঘর পাবেন তাদের ঘরের দলিল দেওয়া হবে, নিজস্ব বিদ্যুতের মিটার, উন্নত চুলা দেওয়া হবে। তাছাড়া কিছু চাষের জমিও দেওয়া হবে। ২২০টি ঘরে বিপরীতে ৭০০ জনের আবেদন জমা পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। তারা যাতে বসবাস করতে পারে, এমন করণীয় সবই সেখানে করা হবে।