ভয়ে এসআইয়ের নাম বলেননি গৃহবধূ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

যশোরের শার্শায় গণধর্ষণ

ভয়ে এসআইয়ের নাম বলেননি গৃহবধূ

যশোর প্রতিনিধি ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

print
ভয়ে এসআইয়ের নাম বলেননি গৃহবধূ

যশোরের শার্শায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ভয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে এসআই খায়রুলের নাম প্রকাশ করেননি বলে দাবি করেছেন। তিনি এখন এসআই খায়রুলসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

গতকাল সকালে যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুরে নিজ বাড়িতে ওই গৃহবধূ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি খায়রুলকে (এসআই) শুধু চিনি-ই নাই, ভালোভাবেই চিনি। আমাদের কাছ থেকে দফায় দফায় ৮ ও ৪ হাজার করে টাকা নিয়েছেন তিনি। আবার বিনা কারণে আমার স্বামীরে ধরে নিয়ে গেছে।’

নির্যাতিত ওই গৃহবধূ বলেন, ‘পুলিশ যখন খায়রুলকে আমার সামনে নিয়ে আসছিল এবং জিজ্ঞেস করছিল- ইনি ছিলেন কিনা। তখন আমি বিবেচনা করে দেখলাম, সে তো পুলিশের লোক। যখন সে বারবার আমার স্বামীরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে আমি পারব না। তাছাড়া খায়রুল আমার দিকে এমনভাবে তাকাইছে, তার চোখের ভাষায় আমি বুঝতি পারছি।’

ধর্ষণের সময় এসআই খায়রুল উপস্থিত ছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রিপোর্টে তো প্রমাণ আসবে। আর আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তারা সেসব বলবে। কারণ তারা আরও ভালো জানে।’ এ সময় এসআই খায়রুলসহ আরও যে তিন আসামি রয়েছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে ওই গৃহবধূ বলেন, ‘তাদের শাস্তি দেখে আরও ৫-১০ জন মানুষ যেন এমন অপকর্ম করতে সাহস না করে।’

এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল, এসআই খায়রুল আলমকে ওই গৃহবধূর সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে চিনতে পারেননি। সে জন্য তার নাম বাদ দিয়ে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান বলেন, ‘ওই গৃহবধূ সেদিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনেই এসআই খায়রুল সম্পর্কে তার বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি।’ তবে আজ (গতকাল) কেন ভয়ের কথা বলছেন, এ প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘হয়তো কেউ তাকে দিয়ে এখন এসব বলাচ্ছে। হয়তো কেউ ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ চরিতার্থ করতে এসব করাচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর এলাকায় ওই গৃহবধূর বাড়িতে গভীর রাতে যায় এসআই খায়রুল, সোর্স কামারুলসহ চারজন। তারা ওই গৃহবধূর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই খায়রুল ও কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন। ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই গৃহবধূ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে এলে বিষয়টি প্রকাশ্য হয়ে যায়। রাতেই শার্শা থানায় একটি মামলা করেন গৃহবধূ। তবে, মামলায় এসআই খায়রুলের নাম রাখা হয়নি। এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আর গত বৃহস্পতিবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানিয়েছিলেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এখন ডিএনএ টেস্ট হলে সব জানা যাবে বলে জানান ডাক্তার আরিফ।

পিবিআইকে মামলা হস্তান্তর : যশোরের শার্শা উপজেলায় গৃহবধূকে (৩০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মামলার নথিপত্র হস্তান্তর করা হয়। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএমএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শার্শার লক্ষ্মণপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার নথিপত্র গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই মোনায়েম হোসেনকে।

এসআই মোনায়েম হোসেন খান বলেন, ‘মামলার কাগজপত্র পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেছি, আরও কিছু বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। এছাড়া মামলার সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’