সুন্দরবনে মাছ শিকার শুরু

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

সুন্দরবনে মাছ শিকার শুরু

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ৫:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
সুন্দরবনে মাছ শিকার শুরু

সুন্দরবনের নদী-খালে দু’মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধসহ বন অপরাধ কমানোর জন্যই ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাওয়ায় বন নির্ভরশীল উপকূলের হাজার হাজার জেলে জাল-নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে মাছ শিকারে যেতে শুরু করেছেন। নিষেধাজ্ঞার দরুন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে এখন কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘ দু’মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মোংলাসহ আশপাশ উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জেলে পরিবার অনেকটা অভাব অনটনেই দিন কাটায়। অনেকে কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান। দুই মাস দূর-দূরান্তে কাজকর্ম করেছেন তারা। নিষেধাজ্ঞা শেষের খবর পেয়ে তারা আবারো নিজ গ্রামে ছুটে এসেছেন। এখন পুরনো নৌকা ও জাল মেরামত করে বন বিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে যেতে শুরু করেছেন সুন্দরবনে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই-আগস্ট দুই মাস সুন্দরবনে মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় মাছ ধরা হলে ডিমওয়ালা ‘মা’ মাছ মারা পড়ে। অসাধু এক শ্রেণির জেলে একসঙ্গে বেশি এবং বড় মাছের আশায় বনের ছোট-বড় খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে থাকেন। এতে মৎস্য সম্পদসহ অন্যান্য জলজ প্রাণিও ধ্বংস হয়ে থাকে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকে সুন্দরবনের গোটা জীববৈচিত্র্যে। তাই মাছের প্রজনন ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার রোধে বন বিভাগ দু’মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার জয়মনিরঘোল এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও তালেব খান বলেন, বন বিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে জেলে নৌকা প্রতি আমাদের এক লাখ থেকে সোয়া লাখ টাকা পর্যন্ত দাদন দেওয়া ছিল। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দাদন দেওয়া টাকা জেলেরা বসে বসে খেয়ে শেষ করেছেন। এখন নতুন করে আবার দাদন দিয়ে তাদের সুন্দরবনে পাঠাতে হবে।