বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অর্থ বাণিজ্য

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অর্থ বাণিজ্য

নড়াইল প্রতিনিধি ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

print
বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অর্থ বাণিজ্য

পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার শর্তে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামের দুটি পাড়ার ১২২০টি পরিবারের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি পরিবার টাকা না দেওয়ায় স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দালালরা হুমকি দিচ্ছেন টাকা দিতে না পারলে ঘরে আলো জ্বলবে না। এমনিক টাকার নেওয়ার বিষয়টি কাউকে জানালে যাদের বাড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তাদের বাড়ির বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার খুলে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের মধ্যপুরুলিয়া ও দাড়িপর পাড়ায় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, নড়াইল থেকে ১২২০ জন গ্রাহকের মধ্যে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তাদের বাড়ির সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং তার বসানো হয়। আবাসিক সংযোগের জন্য একজন গ্রাহক অফিসে জামানত বাবদ ৪০০ টাকা এবং সমিতির সদস্য বাবদ ৫০ টাকা দিলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার এবং মিটার গ্রাহকের বাড়িতে বসিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বাকি খরচ গ্রাহকের। কিন্তু পুরুলিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের রকিবুল ইসলাম ও চাঁচুড়ি এলাকার মিলনসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে পুরুলিয়া মধ্যপাড়ার পলি বেগম, ফিরোজা বেগম, ইবাদুল শেখ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রুহুল কুদ্দুস, চান মোল্যা, খাজা মিয়া, লিটন শেখ, গফুর শেখ, জান্নু মোল্যা, সালামত শেখ, আকছির বাকা মিনা, দাড়িপর পাড়ার বাদল মোল্যা, সোহেল মোল্যা, সুরত গাজী, রবিউল ইসলাম, সাবু শেখসহ ১২২০টি পরিবারের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার করে টাকা নিচ্ছেন।

পুরুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের শফিক মোল্যার স্ত্রী পলি বেগম বলেন, চন্দ্রপুর গ্রামের রাকিবুল মোল্যা বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছেন। দাবিকৃত টাকা দেইনি বলে রকিবুল হুমকি দিয়েছেন, তোমার বাড়ির পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার খুলে নেওয়া হবে। টাকা না দিলে ঘরে আলো জ্বলবে না।

পুরুলিয়া গ্রামের ভ্যানচালক ফেরদৌস গাজী বলেন, আমার বাড়ি খুঁটির আওতার বাইরে বলে রাকিবুল বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ সংযোগের জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করেছেন। এক হাজার টাকা দিলেও আমার বাড়িতে খুঁটি পৌছায়নি।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি বাজার শাখার লাইন টেকনিশিয়ান মেঘনাথ বিশ্বাস বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নড়াইলের ডিজিএম দিলীপ কুমার বাইন বলেন, বিদ্যুতের জন্য টাকা নেওয়ার ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাব-জোনাল অফিস এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে। তবে অনিয়মের বিষয়টি জোনাল অফিসের এজিএমকে আমি জানাব।