ভেড়ামারায় ছাদে সবুজ বাগান

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

ভেড়ামারায় ছাদে সবুজ বাগান

আল-মাহাদী, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯

print
ভেড়ামারায় ছাদে সবুজ বাগান

টাটকা শাকসবজি, ফল খেতে পছন্দ করেন না কে? আর এসবই যদি হয় নিজের বাড়ির ছাদে তাহলে কেমন হবে? নাগরিক ব্যস্ততার যান্ত্রিক পীড়ন থেকে একটু প্রশান্তি পেতে কিংবা এক টুকরো সবুজ ছোঁয়ার আশায় বাড়ির ছাদটি এখন অনেকেরই শখের বাগান। একটু ইচ্ছা আর সামান্য শ্রমেই কিন্তু আপনার বাড়ির ছাদ হয়ে উঠতে পারে একখ- সবুজ আঙিনা।

গ্রামের উর্বর মাটিতে যে ফুল, ফল কিংবা সবজি বাগান আমরা দেখে মুগ্ধ হই, আগ্রহ থাকলে তাকে তুলে আনা সম্ভব শহরের বহুতল ভবনের ছাদেও। নিজেদের হাতে ফলানো যেতে পারে বিষমুক্ত শাক, সবজি, ফলমূল। এভাবে মেটানো যেতে আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদাও। তেমনি একজন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের তালতলা এলাকার জাতীয় মহিলা সংস্থার সমন্বয়কারী ডা. মো. আসমান আলী। নিজ বাড়ির ছাদে তৈরি করেছেন একটি চমৎকার বাগান। সরেজমিন দেখা যায়, দোতলার ছাদ বেশ ছিমছাম, সাজানো-গোছানো একটি বাগান। শখের বশে বাড়ির ছাদে ফল ও সবজির বাগান করেছেন তিনি। ছাদে বাগান করে তিনি যেমন মনে আনন্দ পাচ্ছেন; তেমনি বিশুদ্ধ শাক-সবজি ও ফল পাচ্ছেন।

ডা. মোহা. আসমান আলী জানান, অনেকের পরামর্শ নিয়ে আমার বাড়ির ছাদে শখের ছাদ বাগান শুরু করি। দেড় বছর পর এখন নিজের ছাদ বাগান দেখে নিজেই মুগ্ধ হই। নিজেকে আজ সফল মনে হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের ছাদের পুরোটাজুড়ে বিভিন্ন ফল ও সবজির চাষ করেছেন তিনি। কী নেই তার বাগানে।

সব ধরনের সবজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে ছাদজুড়ে। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ও অফিস শেষ করে বিকালে বাগানে এসে গাছে পানি দেওয়াসহ পরিচর্যার কাজ করেন তিনি। নিচ থেকে ছাদে পাইপ টানা হয়েছে পানি দেওয়ার জন্য। আসমান আলীর স্ত্রী আর এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। দোতলা বাড়ির ছাদে মাটির টব, প্লাস্টিকের বস্তা, ছোট আকৃতি ও বড় আকৃতির ড্রামের ভেতরে মাটি ভরে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে। সেখানে শাক-সবজি, ফলজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।

অনেক গাছে ঝুলছে ফল। যার মধ্যে রয়েছে দেশি কমলা, চাইনিজ কমলা, পেয়ারা, লেবু, করমচা, মরিচ ও বেগুন। জানা গেছে, আসমান আলী গত বছরের শুরুতে ছাদবাগানে গাছ লাগানো শুরু করেন। বর্তমানে তার ছাদ বাগানে আম, পেয়ারা, দেশি কমলা, চাইনিজ কমলা, করমচা, মিষ্টি তেঁতুল, ডালিম, চেরিফল, লেবু, নাগা মরিচ, লাল জাম্বুরা, বেল, আতা ফল, বেগুন, পুঁইশাক, পেঁপে, সজনে, পুদিনা, কলমি শাক, তেজপাতা ও এলাচ গাছও রয়েছে। এছাড়াও অ্যালোভেরা, গোলাপ, মর্নিংগ্লোরিসসহ নজরকাড়া ফুল গাছও শোভা পাচ্ছে।

ডা. মোহা. আসমান আলী বলেন, ইট কাঠের নাগরিক সভ্যতার শহরগুলো থেকে দ্রুতই হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ। কিন্তু মানুষ তার শিকড়কে সহজে ভুলতে পারে না। সবুজে ভরা গ্রাম বাংলায় বেড়ে ওঠা নাগরিক সমাজের একটা অংশ সবুজকে ধরে রাখতে চায় আবাসস্থলে। শৌখিন মানুষ তাদের ঘরবাড়িতে সবুজকে ধরে রাখার জন্য একান্ত নিজস্ব ভাবনা আর প্রচেষ্টায় নিজ বাড়ির ছাদে তৈরি করেছি ছাদ বাগান। সময়ের সঙ্গে এ বাগান এখন আর শৌখিনতায় আটকে নেই। নিরাপদ সবজি দিয়ে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদাপূরণ, পারিবারিক বিনোদন এবং অবসর কাটানোর এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে আমার ছাদ বাগানটি।